Madhyamik 2026

জুতোয়, অন্তর্বাসে লুকিয়ে মোবাইল, মাধ্যমিকে অভিনব টোকাটুকি, কোথাও শিক্ষকই দিলেন মদত

কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, কোচবিহার, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ধরা পড়েছে ১২ জন পরীক্ষার্থী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১১
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

দুর্জনের ছলের অভাব হয় না, আর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে নতুন নতুন ফন্দি আবিষ্কারও শেষ হয় না। ২০২৬ মাধ্যমিক সাক্ষী রইল তেমনই অভিনব ও অত্যাধুনিক ফন্দি-ফিকিরের।

Advertisement

শনিবার ছিল মাধ্যমিকের ভূগোল পরীক্ষা। বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলনে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানাল, এ দিনও গোটা রাজ্যে ১২ পরীক্ষার্থী ধরা পড়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগে। শুক্রবার পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল এক অভিনব প্রবণতা— পড়ুয়ারা দলবদ্ধ ভাবে একটি বা দু’টি মোবাইল নিয়ে ঢুকছিল পরীক্ষাকেন্দ্রে। সেগুলিকে ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে জেনে নিচ্ছিল উত্তর। তার পর চলছিল টোকাটুকি। শনিবার অবশ্য অনেককেই ব্যক্তিগত ভাবে মোবাইল করতে দেখা গিয়েছে। কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, কোচবিহার, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ধরা পড়েছে ১২ জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে কেউ কেউ শৌচাগারে মোবাইল রেখে এসেছিল। কেউ আবার মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিল জুতো বা অন্তর্বাসের ভিতর। এক পরীক্ষার্থী মোবাইল বার করতে গিয়েই ধরা পড়ে যায়। বাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তর জেনেও ফেলেছিল। তাদের পুরো পরীক্ষাই বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।

পরিদর্শকের চোখে ধুলো দিতে এক পরীক্ষার্থী গত বছরের প্রশ্নপত্র নিয়ে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে। পুরনো প্রশ্নপত্র বেঞ্চে রেখে নতুন প্রশ্নপত্র শৌচাগারে নিয়ে চলে গিয়েছিল সে। তার পর চলছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উত্তর জেনে নেওয়ার পালা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ধরা পড়েছে ওই পরীক্ষার্থী।

শেষরক্ষা হয়নি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষকেরও। পর্ষদের দাবি, শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার খাতা ব্যবহার করেই উত্তর লিখে এনেছিলেন তিনি। সেই উত্তর পরীক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছিলেন। কিন্তু পরিদর্শকের চোখে ধরা পড়ে যান। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়েছে পর্ষদ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২১৪-এর ২২ ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।

এ দিকে, কলকাতার খন্না হাইস্কুলের পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মোমিন হাইস্কুলে ভাঙচুর করার। অভিযোগ, ভূগোল পরীক্ষার শেষে ওই ছাত্ররা পরীক্ষাকক্ষে ভাঙচুর চালায়। বেকিয়ে দেওয়া হয় পাখার ব্লেড। যদিও এ বিষয়ে পর্ষদের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে খন্না হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ আপোসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চেয়েছেন। তাঁরা রবিবারের মধ্যে মোমিন হাইস্কুলে যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এ দিনই ধরা পড়েছে এক কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষার্থী। হুগলির মহেশ্বর হাইস্কুলে ওই পরীক্ষার্থীর শুধু বাংলা এবং অঙ্ক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে এতদিন সব পরীক্ষাই দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। এ জন্য ভেন্যু সুপাইভাইজ়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ।

পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এ বছর টোকাটুকির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার লক্ষ করা যাচ্ছে। দলগতভাবে নকল করছে পরীক্ষার্থীরা। এই প্রবণতা একেবারেই নতুন।” তিনি জানিয়েছেন,শনিবার মোট ৫৫ জন পরীক্ষার্থী হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন। আবার দু’জন পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের আলাদা পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বছর এখনও পর্যন্ত মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হয়েছে মোবাইল ব্যবহারের কারণে।

Advertisement
আরও পড়ুন