NCERT Class 8 Textbook

স্কুলপাঠ্যে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি’! সুপ্রিম কোর্টে নিষিদ্ধ বই, সিলেবাস কমিটিতে কারা, জানতে চায় শীর্ষ আদালত

প্রধান বিচারপতি বলেন, “বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে গিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা রক্তাক্ত।” গত বুধবার এনসিইআরটি জানায়, এই ত্রুটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তারা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এই ক্ষমাপ্রার্থনার আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১০

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিচারবিভাগের প্রতি অবমাননার মামলায় অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর এবং এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে।

Advertisement

গত সোমবার থেকেই এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে দেশের বিচারবিভাগ। কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির তরফ থেকে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে উত্থাপন করা হয়। মঙ্গলবারই তাঁরা প্রধান বিচারপতির এজলাসে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের কথা বলেন। এ বিষয়ে গুরুত্ব বিচার করে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানেই এনসিইআরটি-র বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। শুধু তা-ই নয়, ওই অধ্যায় যাঁরা তৈরি করেছিলেন তাঁদের নাম আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবার আদালতে ডিভিশন বেঞ্চের তরফে গোটা ঘটনাটিকে ‘মারাত্মক অবমাননাকর’ এবং ‘বেপরোয়া’ বলে চিহ্নিত করা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, “বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে গিয়েছে এবং বিচারব্যবস্থা রক্তাক্ত।” স্কুল শিক্ষা দফতর এবং এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশপ্রসাদ সাকলানির নামে নোটিস জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে না। গত বুধবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনসিইআরটি ক্ষমা প্রার্থনা করে। জানায়, এই ত্রুটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং উল্লিখিত অধ্যায়ে অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু যোগ করার বিষয়টিতে তারা ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে এ বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই ক্ষমা প্রার্থনা আদৌ আন্তরিক, না কি উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের কৌশল, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।”

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে আদালত অবমাননার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। পাঠ্যপুস্তকে বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর বিরুদ্ধে। বুধবারই অবশ্য জানানো হয়, সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা সংক্রান্ত অধ্যায়টি সংশোধন করা হবে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য থেকে। বাদ দেওয়া হবে অবমাননাকর অংশগুলি।

Advertisement
আরও পড়ুন