— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পরিবেশ বাঁচাতে হলে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজন। আর সেই বৃক্ষের সঙ্গে যদি জড়িয়ে থাকে মায়ের নাম, তা হলে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং পরিবেশ রক্ষা দু’টিই বজায় থাকে। এই উদ্দেশ্যেই ২০২৪ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ‘এক পেড় মাকে নাম’, অর্থাৎ ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বারে রাজ্যে সেই প্রকল্প শুরু হচ্ছে। স্কুলশিক্ষা এবং বন দফতরের উদ্যোগে আগামী ৫ জুন, শুক্রবার থেকে আগামী এক বছর গোটা রাজ্যে এই প্রকল্প চলবে।
সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা ও বন দফতর থেকে সব জেলাশাসক, নোডাল বিভাগীয় বন আধিকারিক এবং জেলা স্কুল পরিদর্শকদের একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে আগামী ৫ জুন এই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত গোটা রাজ্যে এক কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সারা বছর ধরেই এই কাজ চলবে। জেলাস্কুল পরিদর্শক এবং নোডাল বিভাগীয় বন আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যেন এই কাজ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে জেলা শাসকদের।
এক জেলাস্কুল পরিদর্শক জানান, বিভিন্ন ব্লক থেকে স্কুলগুলিকে গাছের চারা দেওয়া হবে। গোটা প্রক্রিয়াটিকে সফল করার জন্য প্রথমে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে স্কুলচত্বরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সূত্রপাত করতে হবে। তার পরে গোটা বছর ধরে স্কুলপড়ুয়ারা নিজেদের এলাকাতেও গাছ বসাতে পারবে। স্কুলও নিজেদের মতো করে গাছ সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানান তিনি। মূলত পরিবেশ দিবসেই শুধু আনুষ্ঠানিক ভাবে এই প্রকল্প সীমাবদ্ধ না থেকে গোটা বছর ধরে পরিবেশ বাঁচাতে এবং মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানান এক কর্তা। সারা বছর ধরে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নানা প্রতিযোগিতা এবং নানা কাজের মাধ্যমেও পরিবেশ সচেতনতাকে পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে সরকার।
দমদমের নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান যে, প্রতি বছরই তাঁরা পরিবেশ দিবস পালন করেন। কিন্তু, এ বারে সরকার একটু অন্য ভাবে পরিবেশ সচতেনতা বৃদ্ধি করতে চাইছে। এ ছাড়াও ওই দিন তাঁরা স্কুলেই নাটকের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাইছেন। পরিবেশ সংক্রান্ত মডেল তৈরি এবং বৃক্ষরোপণ— সবটাই থাকছে তাঁদের কর্মসূচিতে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘পরিবেশকে রক্ষা করতে গাছ লাগানো অবশ্যই প্রয়োজন। তার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত থাকায় যে সম্মান ও আবেগ জড়িয়ে যায়, তার ফলে পড়ুয়ারা ওই গাছগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করবে। তবে এর পাশাপাশি গাছগুলিকে রক্ষা করার জন্য স্কুলগুলিকে কিছু উপকরণ দেওয়া উচিত।’’ তিনি জানান, গাছগুলিকে ঘিরে না রাখলে, সেগুলিকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে উঠবে। সেগুলি করতে যে খরচ, সেটা সরকারেরই দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। যে হেতু এই প্রকল্পের সঙ্গে বন দফতর রয়েছে, এ ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব ওই দফতর নিতে পারে বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটি শুধু খাতায়-কলমে রয়ে গেলে পরিবেশের তাতে কোনও সুরাহা হবে না। বৃক্ষরোপণের যে সুপ্রভাব সেটাও সমাজের কেউ পাবে না। তাই গোটা প্রকল্পটি সারা বছর ধরে পর্যালোচনার এবং সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।