ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় মহিলাদের আগ্রহ বেড়েছে না কমেছে, তা নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। নীতি আয়োগের সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে আইটিআই কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার বিভিন্ন বিষয়ের তুলনায় কসমেটোলজি, ফ্যাশন ডিজ়াইন, ড্রেস মেকিং কিংবা এমব্রয়ডারির মতো বিষয় বেছে নিতে চাইছেন মহিলারা। গত কয়েক বছরে ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা আইটিআই বেছেছেন মাত্র ৬.৮ শতাংশ মহিলা।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সরকারের তরফে কারিগরি ও শিল্পখাতে চাকরির ক্ষেত্রে যথাযথ বেতনকাঠামো, কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হলেও দক্ষতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে মহিলারা গতানুগতিক পেশার দিকেই বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে মাত্র দু’লক্ষ মহিলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এ (আইটিআই) ভর্তি হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের সংখ্যা প্রায় ৩৭ লক্ষ।
আইটিআই ট্রেডে মাধ্যমে সাধারণত যন্ত্রের খুঁটিনাটি সম্পর্কিত কাজ শেখানো হয়ে থাকে। ফিটার, টার্নার, ওয়েল্ডার, মেকানিস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, এয়ার কন্ডিশনার অ্যান্ড রেফ্রিজারেটর মেকানিক, যন্ত্রের একাধিক অংশের মেরামত করা কিংবা তার রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলিই সাধারণত শেখানো হয়। প্রশিক্ষণের পর শিল্পোৎপাদন সংস্থাগুলিতে চাকরির সুযোগ রয়েছে যথেষ্ট।
তবে নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী, কম্পিউটার অপারেটর অ্যান্ড প্রোগ্রামিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কম্পিউটার হার্ডঅয়্যার অ্যান্ড নেটওয়ার্ক মেনটেনেন্স বিভাগে মহিলাদের যোগদান গত কয়েক বছরে বেড়েছে। মহিলাদের ৩৩ শতাংশের বেশি সংরক্ষণের বিধি দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে চলছে বিতর্ক। এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে নীতি আয়োগের ‘গার্লস অ্যান্ড উইমেন অ্যাট দ্য সেন্টার: অ্যাডভান্সিং নন-ট্র্যাডিশনাল লাইভলিহুডস ইন ইন্ডিয়া’ শীর্ষক রিপোর্ট। এতে মহিলারা যে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার অধীনস্থ চাকরি নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নন, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি।
যদিও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (নীতি আয়োগ) জানিয়েছে, এই বৈষম্য দূর করতে এবং মহিলাদের উৎসাহ দিতে বিশেষ কেরিয়ার কাউন্সেলিং, অপ্রচলিত পেশায় কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য আর্থিক সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থাপনার সচেতনতামূলক প্রচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।