WB Elections 2026

পাঁচ বছরে অনেকটা কমল জ্যোতিপ্রিয়ের অস্থাবর সম্পত্তি! তবে এখন বাড়ি হয়েছে নিজের নামে, বছরে আয় করেন কত?

নির্বাচনী হলফনামায় জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছেন, তাঁর ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ১১টি টার্ম ডিপোজ়িট রয়েছে। পোস্ট অফিসেও টাকা জমান। বিনিয়োগ করেন শেয়ারেও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৯
হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

হাবড়ার তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংগঠনের অন্যতম মুখ তিনি। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীও। রেশন দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে যাওয়ার পরে গ্রেফতার হন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর হাতে। এখন জামিনে মুক্ত। আসন্ন বিধানসভা ভোটে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। এ বারও হাবড়া থেকেই।

Advertisement

২০২৩ সালের অক্টোবরে রেশন দুর্নীতির মামলায় জ্যোতিপ্রিয়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। প্রায় ১৪ মাস জেলবন্দি ছিলেন তিনি। গত বছরের জানুয়ারিতে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পান রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। গ্রেফতারির আগে রাজ্যের বন দফতর এবং শিল্পোদ্যোগ ও শিল্প পুনর্গঠনের দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। গ্রেফতারির পরে উভয় দফতরের দায়িত্ব থেকেই সরানো হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয়কে। এ বার আসন্ন বিধানসভা ভোটে ফের হাবড়া থেকেই তাঁকে প্রার্থী করেছে দল। গত তিনটি বিধানসভা ভোটে ধারাবাহিক ভাবে এই আসনে জিতেছেন জ্যোতিপ্রিয়। সম্প্রতি হাবড়া কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তিনি। জ্যোতিপ্রিয়ের হলফনামায় তাঁর আয়, সম্পত্তির হিসাবনিকাশ-সহ বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

আয় এবং সম্পত্তি

পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছিলেন, তাঁর সেই সময়ে মোট ৩ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। স্ত্রীরও অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার। তবে ওই সময়ে জ্যোতিপ্রিয়ের নিজের নামে জমিজমা, বাড়িঘর ছিল না। জমি ছিল তাঁর স্ত্রীর নামে। সেই জমির তৎকালীন বাজারদর ছিল ৪ লক্ষের কিছু বেশি। ওই সময়ে জ্যোতিপ্রিয়ের আংটি এবং চেন মিলিয়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার অলঙ্কার ছিল। স্ত্রীর নামেও গয়না ছিল ৪ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার।

সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামায় জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছেন, তাঁর এখন মোট ১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩১ লক্ষ টাকার। এর মধ্যে কলকাতায় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় তাঁর নামে দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে জ্যোতিপ্রিয়ের বার্ষিক আয় ছিল ৩৮ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। তার আগের চার অর্থবর্ষে (২০২০-২১ সাল থেকে) তাঁর বার্ষিক আয় ছিল যথাক্রমে ২৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা, ২১ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, ২৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা এবং ৩৮ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।

নির্বাচনী হলফনামায় জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছেন, ৪ এপ্রিল হলফনামা জমা দেওয়ার সময়ে তাঁর হাতে নগদ ২৪ হাজার টাকা ছিল। তাঁর ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ১১টি টার্ম ডিপোজ়িট রয়েছে। পোস্ট অফিসেও টাকা জমান। বিনিয়োগ করেন শেয়ারেও। বিদায়ী বিধায়কের নামে যে গাড়িটি রয়েছে, তার দাম ৭ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। তাঁর নিজের চারটি আংটি রয়েছে, যেগুলির এখন দাম ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। দু’টি ফ্ল্যাট ছাড়া তাঁর নামে আর কোনও স্থাবর সম্পত্তি নেই। নেই নিজের নামে কোনও জমি। টার্ম ডিপোজ়িট লোন রয়েছে তাঁর নামে। এক সমবায় ব্যাঙ্কের থেকে ৩০ লক্ষ ৯১ হাজার টাকার ঋণ নিয়েছেন তিনি। জ্যোতিপ্রিয়র স্ত্রীরও বর্তমানে অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬৬ লক্ষ ৬১ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪০ লক্ষ টাকার। স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি রয়েছে, সেটির দাম ৯ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা।

অপরাধের অভিযোগ

২০২১ সালের ভোটের আগে জ্যোতিপ্রিয় হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর ছিল না। তবে এখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জুড়েছে। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামায় জ্যোতিপ্রিয় জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। ইডির দায়ের করা ওই অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পিএমএলএ আইনে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে মামলাটি কলকাতায় বিচারভবনে বিচারাধীন। তবে এখনও ওই মামলায় চার্জ গঠন হয়নি।

উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতির মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবরে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। প্রায় ১৪ মাস জেলবন্দি ছিলেন। তাঁকে রাখা হয়েছিল আলিপুরের প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। পরে আদালতে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি বিশেষ ইডি আদালত ৫০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং ২৫ হাজার টাকার দু’টি বন্ডে শর্তসাপেক্ষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।

পেশা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা

রাজনীতিক হওয়ার পাশাপাশি জ্যোতিপ্রিয় একজন আইনজীবীও। হলফনামায় নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েছেন আইনজীবী হিসাবে। জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন