—প্রতীকী চিত্র।
ভোটের আগে অশান্তি ঠেকাতে আগাম গ্রেফতার বা আটক সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। সোমবার রাতে রাজ্য পুুলিশের ডিজিকে সম্ভাব্য হাঙ্গামাকারীদের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল কমিশন।
পুলিশ সূত্রের খবর, তার ভিত্তিতে ধরপাকড় শুরু হয়। সেই ধরপাকড়ের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার কোর্টে মামলা করেন জনৈক দানিশ ফারুকি। সেই মামলায় বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশনবেঞ্চ জানিয়েছে, আদালত বিশ্বাস করে যে নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা এবং তার অফিসারেরা কোনও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই স্বচ্ছ, অবাধ, ভয়মুক্ত নির্বাচন করানোর কাজ করছেন। তাই কোর্ট এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপকরছে না।
এ দিন মামলাকারীর আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টে জানান যে এর আগে কমিশনের ‘হাঙ্গামাকারীর’ তালিকা হাই কোর্ট স্থগিত করে দিলেও ‘অশান্তি পাকাতে পারে’ এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে যাতে ৩৫০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর নাম দেওয়া হয়েছে।
কল্যাণের অভিযোগ, ভবানীপুর কেন্দ্র কমিশনের নিশানায় আছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়েছিল। এমনকি কল্যাণের দাবি, কালীঘাটের ওসি তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। পুলিশ পর্যবেক্ষক এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করছেন।
কমিশনের কৌঁসুলি জিষ্ণু চৌধুরী জানান যে এর আগে কোর্ট কমিশনকে আইনানুগ পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছিল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করাও আইনে অনুমোদিত। রাজভবন, সিইও এবং থানায় অভিযোগ আসছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে যে আদালত মনে করে, রাজ্যের নাগরিকদের স্বার্থে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। একান্ত প্রয়োজনীয় না-হলে কমিশন গ্রেফতার বা আটক করার পথে হাঁটবে না।