WB Assembly Elections 2026

ভবানীপুরে নির্বাচনের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, কমিশনের পাল্টা জবাবের মাঝেই জনসংযোগে জোর মমতার

মঙ্গলবার ভবানীপুরে তাঁর নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের তরফে সেই কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩২
CM Mamata Banerjee engaged in door-to-door public outreach across every ward during her election campaign in Bhabanipur

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। মঙ্গলবার জগদ্দলের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে খাস ভবানীপুরেই। মঙ্গলবার সেই অভিযোগ ঘিরে এক দিকে যেমন নির্বাচন কমিশন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রীও সরাসরি এলাকায় নেমে জনসংযোগে জোর বাড়িয়েছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার ভবানীপুরে তাঁর নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের তরফে ওই কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সুবিধা’ পোর্টালে অনলাইনে আবেদন না-করেই ওই কর্মসূচি করা হচ্ছিল। মুখ্যমন্ত্রী যদিও অফলাইনে অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু বর্তমান বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমেই অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে নিয়ম না-মানায় অনুমোদন মেলেনি বলেই দাবি কমিশনের।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম না-করেই কড়া সুরে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এক জন গদ্দারকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে আনা হয়েছে, যিনি অনুমতি দিতে অস্বীকার করছেন। আমি ভোটের পর দেখব, তাঁর কী হয়! আমাকে আটকাতে পারবেন না। আমি সভা না-করলেও মানুষের সঙ্গে দেখা করব, চা খাব— সাহস থাকলে সেটাও বন্ধ করে দেখান।” তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্কের মাঝেই নিজের কৌশল বদলে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। জোড়াসাঁকো কেন্দ্রের প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়ের সভা শেষ করে তিনি রওনা দেন ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলিন্স স্ট্রিটে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাঁদের সঙ্গে বসে চা খান। এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও দৈনন্দিন জীবনের খোঁজখবর নেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাঁর প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এর পর তিনি যান ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে চৌরঙ্গীর জৈন শ্বেতাম্বর মন্দিরে পুজো দেন। জৈন সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এক প্রবীণ বাসিন্দা অনল ঘোষ তাঁকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “আপনি বাংলার জন্য যে ভাবে পরিশ্রম করছেন, তা বিফল হবে না। মানুষ আবার আপনাকেই সমর্থন দেবে।”

পরে ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের গোলমন্দির এবং শীতলা মন্দিরে গিয়েও পুজো দেন মমতা। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত পুরোহিত ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মতামতও শোনেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই জনসংযোগ কর্মসূচিতে ছিলেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ অসীম বসু। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রচার করেননি। কারও কাছে তাঁকে ভোট দেওয়ার অনুরোধও করেননি। কিন্তু সাধারণ মানুষ মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে তাঁকে এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফের এক বার ক্ষমতায় আনার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।’’

রবিবার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের লেডিজ পার্কে ভবানীপুরের নাগরিক সমাজের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। সোমবার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি আবাসনে গিয়েও জনসংযোগ করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বিধি ও রাজনৈতিক অভিযোগের টানাপড়েনের মধ্যেই ভবানীপুরে প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী— সভা নয়, সরাসরি জনসংযোগেই ভরসা রাখছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন