West Bengal Elections 2026 Voting Phase 2

২৩০ পার করবেই, দু’দফা ভোট শেষে অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দাবি তৃণমূলের! ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম কেন্দ্র নিয়ে কী ভাবছে শাসকদল?

তৃণমূল সূত্রের দাবি, রাজ্যের মহিলা ভোটারদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে পেরেছে তারা। যে জেলাগুলিতে কিছু দুর্বলতা ছিল, সেখানেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ২২:০৪
২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা ঘোষণার সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০ আসন পার করবেই জোড়াফুল— দু’দফার ভোট শেষে তৃণমূল সূত্রে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে এই হিসাবই উঠে এসেছে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন, তাঁর দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেই।

Advertisement

এই নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ছিল অনুপ্রবেশের অভিযোগ। অন্য দিকে, তৃণমূলের কাছে হাতিয়ার ছিল, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে ‘হেনস্থা’ এবং বাঙালি আবেগ। মূলত এই বিষয়গুলির উপরেই নির্বাচন হয়েছে এ বার। তাতে তৃণমূল বার বার ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি-কে। দু’দফার নির্বাচন শেষে তৃণমূল সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এ বার আসন সংখ্যার দিক থেকে সর্বকালীন রেকর্ড গড়বে তৃণমূল। ওই সূত্র জানাচ্ছে, তাদের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই ভোটের ফল হবে সাধারণ মানুষের ‘ক্রোধের রায়’। এসআইআরের নামে ‘অত্যাচার’ এবং ‘বাংলাদেশি’ বলে ধারাবাহিক আক্রমণ এ বার বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।

এ বারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর আসনের ভোট। মুখ্যমন্ত্রী মমতার আসনে তাঁর বিরুদ্ধে লড়েন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম আসনেও লড়েছেন শুভেন্দু। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি। এ বার সেখানে শুভেন্দুর বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী করে পবিত্র করকে। ভোটের ঠিক মুখেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের দাবি, তাদের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে এই দুই আসন নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণই নেই তৃণমূলের। কারণ, মমতার নিজের আসন ভবানীপুরে শুভেন্দুর কোনও ‘অস্তিত্বই’ নেই বলে দাবি ওই সূত্রের।

অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে বিরোধী পক্ষের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তৃণমূল— দলীয় বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, ৪ মে, ভোটগণনার দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ‘ডিজে’ দুই-ই বাজবে। যে কথা ভোটের প্রচার পর্বে বিভিন্ন সময়ে বলতে শোনা গিয়েছে অভিষেককে।

তৃণমূল সূত্রের দাবি, অজয়পাল শর্মার হুঁশিয়ারি-ভিডিয়ো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ‘বহিরাগত’ বাঙালিদের ‘হুমকি’ দিচ্ছে— এই বিষয়টি ভাল ভাবে নেয়নি জনতা। নাম না-করে অমিত শাহকেও নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকশিবির। তাদের দাবি, গুজরাত থেকে আসা ‘গুন্ডা’ বাঙালিদের হুমকি দিয়েছে। এই সবই আসলে বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হয়েছে বলে মনে করছে তারা। তৃণমূলের ওই সূত্রের দাবি, তারা রাজ্যের মহিলা ভোটারদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে পেরেছে। যে জেলাগুলিতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল, সেখানেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা তৃণমূলের সাফল্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে মনে করছে তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন