ময়নাগুড়িতে ভোটপ্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
ময়নাগুড়ির সভা থেকে নাম না-করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এ দিকে এক ভদ্রলোক আছেন, আর দিল্লিতে দুই ভদ্রলোক। এক, দুই, তিন— ওদের বিদায় দিন।’’
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, ‘‘ওরা নোটবন্দির জন্য মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়। আধার কার্ড, এসআইআরের জন্য লাইনে দাঁড় করায়। এ বার বলছে, দুটো গ্যাস সিলিন্ডার যদি আপনি বুক করতে চান, তবে ৩৫ দিন সময় লাগবে। গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। মানুষ খেতে পাবে না। আবার পুরনো দিনে ফিরে যেতে হবে।’’
ময়নাগুড়ির সভা থেকে আলুচাষিদের আশ্বাস দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে আলু চাষের। আলু চাষিরা চিন্তা করবেন না। আলু চাষিদের শস্যবিমা করা আছে। সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। এটা আগে থেকে করা আছে।’’
মমতার দাবি, ‘‘এখন এসআইআর করে ভোটাধিকার কাড়ছে, দু’দিন পর বলবে এনআরসি করে ডিটেনশন ক্যাম্প করব। আমি বেঁচে থাকতে ডিটেশন ক্যাম্প করতে দেব না। আমার পরের জেনারেশনও তা অ্যালাও করবে না।’’
সোমবার মধ্য রাতে নির্বাচন কমিশন প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই নিয়ে ময়নাগুড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘মধ্যরাতে যত তাণ্ডব। মধ্যরাতে স্বাধীনতা এসেছিল বলে আমরা গর্ব করি। আর আজ ভুলে যান স্বাধীনতার কথা। ওরা সংবিধান মানছে না, স্বাধীনতা মানছে না। মানুষের অধিকার মানছে না।’’ উল্লেখ্য় দিন কয়েক আগে মধ্যরাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে জগদীশপ্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন।
মমতা আবার ‘বিজেপি-স্ট্যাম্প’ নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, ‘‘কখনও শুনেছেন, নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন দিচ্ছে। জীবনে কখন দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে যাচ্ছে! লজ্জা করে না। কোথায় এই লজ্জা ঢাকবেন বিজেপি নেতৃত্ব?’’
মমতা বলেন, ‘‘পেট্রলের দাম বেড়েছে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এটা আমার হাতে নেই। এখন তো আমার হাত থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। আমার হাতে একটাই আছে, সেটা মানুষ। বিজেপি পার্টি ভ্যানিশ পার্টি।’’
মমতা বলেন, ‘‘বিজেপি হিংসুটে দল। মা-বোনেদের নাম কেটে দিচ্ছে। কোনও মহিলা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছেন, পদবি বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে তাঁর নাম বাদ।’’
ময়নাগুড়ির সভা থেকে কেন্দ্র বাহিনীকে বার্তা দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু মনে রাখবেন, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। দিল্লি এখন দিল্লিতে ক্ষমতায় আছে, পাল্টে যাবে। আপনারা আপনাদের (কেন্দ্রীয় বাহিনী) কাজ সম্মানের সঙ্গে করুন।’’ তার পরেই তোপ, ‘‘যদি ভোটের সময় আপনারা বিজেপির পোলিং এজেন্ট হয়ে গেলে, আমাদের মা-বোনেরা আছেন, তাঁরা দেখে নেবেন। আমরা কিছু করব না।’’
মমতা বলেন, ‘‘এসআইআর করে রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এসআইআরে মৃত্যুর দায় কে নেবে?’’
মমতা বলেন, ‘‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না, করে দেখাই।’’ তৃণমূলকে কেন ভোট দেবেন, তার ব্যাখ্যাও করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘চা-বাগান খোলা রাখতে, চা সুন্দরী চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দিন।’’
মমতা বলেন, ‘‘পেট্রলের দাম বাড়ছে। কিন্তু এখন আমার কিছু করার নেই। আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। তবে আমার কাছে মানুষ আছে।’’
মমতার সভা শুরু হল। তিনি বলেন, ‘‘অন্নপূর্ণা পুজোর শুভ দিনে, মা অন্নপূর্ণাকে সাক্ষী রেখে আমি আমার নির্বাচনী প্রচার শুরু করলাম।’’
বুধবার মমতার প্রথম জনসভা ময়নাগুড়ি টাউন ক্লাব মাঠে। এ বার এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রামমোহন রায়কে। তাঁর সমর্থনেই প্রথম জনসভা করবেন তৃণমূল নেত্রী।
উত্তরবঙ্গ দিয়ে আসন্ন বিধানসভায় ভোটপ্রচার শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবারই উত্তরবঙ্গে উড়ে গিয়েছেন তিনি। তবে তার আগে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির ‘আঁতাঁত’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের একটি ছ’বছরের পুরনো নথি সোমবার প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যাতে পদ্মফুল চিহ্ন-সহ বিজেপির নাম লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেছিলেন, ‘‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।’’