মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
চলতি সপ্তাহেই সংসদে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিল পেশ করতে সক্রিয় হয়েছে মোদীর সরকার। ইসলামপুরের সভা থেকে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এ বার ওরা ডিলিমিটেশন বিল আনবে। মহিলা বিল আনবে। মনে রাখবেন ডিলিমিটেশন বিল আর মহিলা বিল আলাদা। মহিলা বিল দিয়ে দেশটাকে ভাগ করার চেষ্টা করছ? মা-বোনেদের এত অসম্মান করছ কেন?’’ তার পরেই মমতা বলেন, ‘‘তোমরা বিল করার আগেই আমাদের এখান থেকে বেশি সংখ্যক জেতা মহিলা সদস্য লোকসভায় আছেন।’’ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মমতার অভিযোগ, ‘‘মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল জুড়ে দেশ ভাগের চেষ্টা করছ তোমরা।’’
ইসলামপুরের সভা থেকে রাজ্যপালকে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন। আমি নাম নেব না। আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। আমাকে গালি দিয়েছে। আগে তো অশান্তি হত না। এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতি দিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের কাছে রয়েছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আজীবন চলবে লক্ষ্মীর ভান্ডার। যুবসাথীতে টাকা পাওয়া যাবে। তাঁদের চাকরির ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে। সব কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়া হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আপনারা এখন নতুন করে অ্যাকাউন্ট করছেন? টাকার ভান্ডার নিয়ে নেমেছেন? জানবেন নির্বাচনের পর বুলডোজ়ার নিয়ে আসবে, আর আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে। ভয় পাবেন না।’’
মমতার অভিযোগ, ‘‘নির্বাচনের সময় কার্ড বিলি করছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করছি, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করুন।’’ মমতার আবেদন, যাঁরা যাঁরা নির্বাচনের সময় কার্ড বিলি করছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক কমিশন। তাঁর কথায়, ‘‘এখন কেন কার্ড বিলি হচ্ছে। নির্বাচনের আগে করা যায়নি।’’
ইসলামপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিটাকে সম্মান করি। কিন্তু ওদের জানা উচিত কুর্সি কখনও মিথ্যে বলতে পারে না। আমি মিথ্যে বলতে পারি না। আমি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারি না।’’
মমতা বলেন, ‘‘আধিকারিকদের শুধু চমকাচ্ছে। আমাদের মা-বোনেরা কী মরে গিয়েছে? কৃষক ভাই-বোনেরা কি মরে গিয়েছে? বাংলায় কোথায় ছিল ওরা।’’
ইসলামপুরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছোড়ে মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘সাহস থাকলে সকলকে বাদ দিয়ে প্রতি দিন আমার গাড়ি তল্লাশি করুন। আজও দমদমে এসেছিল, আমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু ভয়ে পালিয়ে গিয়েছে।’’ মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘আমার গাড়ি তল্লাশি করতে এসেছিল, আমি খুশি হয়েছিলাম। বিজেপির মতো আমি চোর, ডাকাত নই। আমি রাজনীতি করি। সরকারের থেকে এক পয়সা স্যালারিও নিই না।’’
মমতার অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা টাকা নিয়ে আসছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে কী কী আসে, আমি জানি।’’
মমতা বলেন, ‘‘আজ দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি বললাম, চেক করো চেক করো। আমি চাই চেক করো। তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সিআরপিএফের গাড়িতে তল্লাশি হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন তল্লাশি হবে না? শুধু তৃণমূলের গাড়িতে কেন হবে? এটা কেন ভাবে নির্বাচন হচ্ছে?’’
মমতা বলেন, ‘‘নির্দেশ দিয়ে বলছে তৃণমূলের সকলকে গ্রেফতার করো।’’ তার পরেই মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘তৃণমূলের এক জন গ্রেফতার হলে মনে রাখবেন, আপনাদের হাজার জন গ্রেফতার হবে।’’
মমতার অভিযোগ, দিল্লি থেকে টাকার ‘হুন্ডি’ নিয়ে ভোটপ্রচারে আসছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি কী করছে, পুরো কেন্দ্রীয় সরকারকে এখানে নিয়ে আসছে। আমার লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, আইনকানুন ছাড়া সব ক্ষমতার বিরুদ্ধে।’’
মঞ্চে উঠে দলীয় প্রার্থীদের নাম পড়তে গিয়ে আটকে যান মমতা। কে, কোন কেন্দ্রের প্রার্থী, তা নিয়ে ধন্দ দেখা দেয়। পরে মমতা রেগে গিয়ে মঞ্চে থাকা তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, ‘‘কে কোথাকার প্রার্থী, লেখা নেই কেন?’’
ভিডিয়োপোস্টে যেমন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা বলেছেন মমতা, তেমনই গণতন্ত্রের উৎসবে রাজ্যবাসীকে শামিল হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন। সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়েও আক্রমণ শানিয়েছেন। কটাক্ষ করেছেন বিজেপি-কেও।
বুধবার ইসলামপুরে জনসভা করবেন মমতা। চোপড়ার তৃণমূল প্রার্থী হামিদুল রহমান এবং ইসলামপুরের কানাইয়ালাল অগ্রবালের সমর্থনে সভা করবেন তিনি। এই সভা থেকে কী বার্তা দেবেন, সে দিকে তাকিয়ে সকলে।
পয়লা বৈশাখে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই ইসলামপুরে জনসভা করবেন তিনি। তার পরই রয়েছে তাঁর জোড়া পদযাত্রা। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং মালে পর পর পদযাত্রা করবেন মমতা।