উত্তর কলকাতায় রোড - শো 'র আগে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিতে গিয়ে ফুলের দোকানির কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — নিজস্ব চিত্র।
লোকসভা নির্বাচনের পরে বিধানসভা নির্বাচন। ফের উত্তর কলকাতায় রোড-শো করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই রোড-শো’য় ভিড় হল চোখে পড়ার মতো। তুল্যমূল্য বিচারে সে বারের চেয়ে কিছুটা বেশিই। আর এই ভিড়ে ভর করেই ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে বিজেপি।
কাশীপুর-বেলগাছিয়ার রীতেশ তিওয়ারি, শ্যমপুকুরের পূর্ণিমা চক্রবর্তী, বেলেঘাটার পার্থ চৌধুরী, মানিকতলার তাপস রায়, চৌরঙ্গির সন্তোষ পাঠক, এন্টালির প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়াল এবং জোড়াসাঁকোর বিজয় ওঝার সমর্থনে শেষ দফার নির্বাচনের আগে শেষ রবিবার সন্ধ্যায় রোড-শো করেন মোদী। বি কে পাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে খান্না মোড় পর্যন্ত রোড-শো হয়। রোড-শো'য়ের আগে ঠনঠনিয়া কালী বাড়িতে পুজো দেন মোদী।
রোড-শো উপলক্ষে পুলিশ উত্তর কলকাতার একাধিক রাস্তা আটকে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানজটের একটা সমস্যা হয়। তবে এই নিয়ে অসন্তোষের বদলে মোদীকে একবার চোখে দেখার উৎসাহ ছিল বেশি। মোদীর বাকি রোড-শো’য়ের মতোই এ দিন পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দু’দিকে রাস্তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু ভিড় উপচে রাস্তায় চলে আসে। ভিড়ের চাপে রোড-শো এগোতে থাকে অত্যন্ত ধীর গতিতে। চার দিকে বাড়ির জানলা, বারান্দা, ছাদ থেকেও মানুষ হাত নাড়তে থাকেন, ফুল ছোঁড়েন। কম বয়সীদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মধ্যে কেউ যেমন শুধুই মোদীকে দেখতে চান, অনেকে আবার শুধুই দেখা নয়, রীতিমতো সরকারের পরিবর্তন চান। স্থানীয় বাসিন্দা স্কটিশ চার্চ কলেজের স্নাতক স্তরের এক ছাত্রীর বক্তব্য, ‘‘মেয়েরা অভাব সহ্য করতে পারে, অসম্মান নয়। দেড় হাজার টাকার তুলনায় আমাদের নিরাপত্তা অনেক বেশি দরকার। তাই এই সরকারের পরিবর্তন চাই।’’
মোদীর রোড-শো’য়ের পরেও উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় হেরে গিয়েছিলেন। যদিও ব্যবধান অনেকটাই কমিয়েছিলেন তিনি। জোড়াসাঁকো এবং শ্যামপুকুর থেকেও এগিয়েও ছিলেন। সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া থেকে। মধ্য কলকাতার একাধিক ওয়ার্ড থেকে এগিয়ে ছিলেন। এ বার বিজেপি কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং জোড়াসাঁকো জেতার বিষয়ে আশাবাদী। সন্তোষ প্রার্থী হওয়ার পরে চৌরঙ্গি নিয়েও ‘ইতিবাচক’ ভাবনা রয়েছে তাদের। মোদীর ‘জনপ্রিয়তা’কে ভোটে বদলানোর চেষ্টা করছে তারা। শোভাবাজার ছেড়ে রোড-শো বিধান সরণির উপরে পড়তেই ‘মোদী-মোদী’র মধ্যেই শোনা যায় প্রার্থী তাপসের নামেও স্লোগান। মোদীকে দিয়ে প্রার্থীদের জয়ের সম্ভবনা কিছুটা বাড়াতেই পরিকল্পনা করে এই পথ বেছে নিয়েছিল বিজেপি। মোদীর সঙ্গে এ দিন ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সূত্রের খবর, চর্চা থাকলেও আজ, সোমবার প্রচারের শেষ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্রে মোদীর সম্ভবত কোনও কর্মসূচি থাকছে না। তাঁর সভা রয়েছে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ভাটপাড়ায়।