West Bengal Elections 2026

ভোটার বাদ: ৪৯ আসন নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এর মধ্যে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’-র তালিকায় থাকা ২৭ লক্ষ মানুষ ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাদ যান, যাঁরা আপিল ট্রাইবুনালে গেলেও তাঁদের খুব সামান্য অংশেরই ভোটের আগে ফয়সালা হয়েছে। ফলে অনেক খাঁটি ভোটারই ভোট দিতে পারেননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:৩৩

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, যদি কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে হারজিতের ব্যবধান এসআইআর-এর ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর ফলে ভোট দিতে না পারা ভোটারদের থেকে কম হয়, তা হলে কী হবে? বিধানসভা নির্বাচনের ফল বলছে, রাজ্যের ৪৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানের থেকে ‘অ্যাজুডিকেশন’-এর তালিকায় থাকা ভোটারদের সংখ্যা বেশি। আজ এ নিয়ে কংগ্রেস থেকে গোটা বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর বিরুদ্ধে মামলাকারীদের আইনজীবী কপিল সিব্বলের অভিযোগ, রাজ্যের যে সব আসনে এসআইআর-এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজেপি জিতেছে। এ সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টে আগামী দিনে কী প্রশ্ন উঠবে, তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। তবে কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা অভিযোগ তুলেছেন, এর ফলে নির্বাচনের ফল আগেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এ প্রায় ৯০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। এর মধ্যে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’-র তালিকায় থাকা ২৭ লক্ষ মানুষ ‘অ্যাজুডিকেশন’-এ বাদ যান, যাঁরা আপিল ট্রাইবুনালে গেলেও তাঁদের খুব সামান্য অংশেরই ভোটের আগে ফয়সালা হয়েছে। ফলে অনেক খাঁটি ভোটারই ভোট দিতে পারেননি। গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ঠিক এই প্রশ্নই তুলে বলেছিলেন, ‘‘যদি কোথাও জয়ের ব্যবধান ২ শতাংশ হয়, ১৫ শতাংশ ম্যাপড ভোটার ভোট না দিতে পেরে থাকেন, তা হলে কী হবে? নিশ্চিত ভাবেই বিবেচনা করতে হবে।’’ ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, বিচারপতি বাগচী যে সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন, ৪৯টি কেন্দ্রে তা ঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি ২৬টি আসন জিতেছে। তৃণমূল পেয়েছে ২১টি। কংগ্রেস ২টি আসনে জিতেছে।

সিব্বল বলেন, ৫ হাজারের কম নাম বাদ গিয়েছে, এমন আসনগুলির মধ্যে বিজেপি ১৩টি জিতেছে। তৃণমূল একটিও পায়নি। ৫ থেকে ১৫ হাজার নাম বাদ যাওয়া আসনে তৃণমূল পেয়েছে ১২টি, বিজেপি ৫০টি। ১৫ থেকে ২৫ হাজার নাম বাদ যাওয়া আসনে তৃণমূল ১৯টি জিতেছে, বিজেপি ৪৭টি আসনে জিতেছে। ২৫ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছে, এমন আসনগুলির মধ্যে তৃণমূল ৫১টি আসন জিতেছে। বিজেপি পেয়েছে ৯৫টি আসন। অর্থাৎ, যত বেশি নাম বাদ গিয়েছে, ততই বিজেপির আসন জয়ের সংখ্যা বেড়েছে। সিব্বলের দাবি, ভোটের ফলাফলে ‘এসআইআর-এর ম্যাজিক’ স্পষ্ট।

ভোটগণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ১০০টি আসন লুট করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমে গরমিলের অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, ভোটগণনার ভিডিয়ো প্রকাশ করা হোক। আজ রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘ভোট চুরি কখনও আসন লুট করে হয়। কখনও পুরো সরকার চুরি হয়। লোকসভায় ২৪০ জন বিজেপি সাংসদ। তাঁদের মধ্যে প্রতি ছ’জনের এক জন চুরি করে জিতেছেন। ওঁদের কি বিজেপির ভাষায় অনুপ্রবেশকারী বলা উচিত?’’ রাহুলের এই অভিযোগের পাল্টা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ভোটে হারের সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন রাহুল, কিন্তু তাঁর অহঙ্কার বেড়েই চলেছে। ভোটচুরির গান-ই তাঁর পুরনো ঢাল।’

অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে লখনউয়ে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদব বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনা হোক।’’ সিব্বলের মতে, এই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের জন্য তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন বা কোর্টে মামলা করা উচিত। কংগ্রেস দফতরে পবন খেরা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ১০০টি আসনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে গোটা ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে।

আরও পড়ুন