—প্রতীকী চিত্র।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) অনুযায়ী আবেদন করে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার ১৩ জন মতুয়া-উদ্বাস্তু। এঁরা প্রায় প্রত্যেকেই গড়ে সাত মাস আগে আবেদন করেছিলেন। এ বার ফর্ম-৬ পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন জানিয়েছেন। আশা, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
বাগদায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। জেলার মধ্যে কোনও বিধানসভা এলাকায় এই সংখ্যাই সর্বাধিক বলে প্রশাসন সূত্রের দাবি। বাদ পড়াদের অধিকাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের।
চলতি মাসে বাগদার সন্তোষা কলোনি, গোয়ালবাগি, উত্তর পাঁচপোতা এবং গাদপুকিয়ার ১৩ জন বাসিন্দা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশির বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছ’মাস আগে সিএএ-তে আবেদন করেছিলাম। ১৭ মার্চ শংসাপত্র পেয়েছি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছিল। ফর্ম-৬ জমা দিয়েছি। রবিবার (আজ) আমার শুনানি। আশা করছি, ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। বিধানসভায় ভোট দিতে পারব।’’
উত্তর পাঁচপোতার বিমলকৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘‘বিশ্বাস ছিল, সিএএ শংসাপত্র পেলে নাম তুলতে পারব ভোটার তালিকায়। ফর্ম-৬ জমা দিয়েছি।’’ আর এক আবেদনকারী লক্ষ্মণ ভদ্র বলেন, ‘‘ফর্ম-৬ জমা দিয়েেছি। কিন্তু শুনানি হয়ে নাম ওঠার জন্য সময় খুব কম।’’ কেউ কেউ জানালেন, ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় নাম রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘এত দিন অনেকে বাংলাদেশি বলেছে। এখন আর সে কথা শুনতে হবে না।’’
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুততার সঙ্গে সিএএ-র শংসাপত্র দিচ্ছে। যাঁরা শংসাপত্র পাচ্ছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে, ভোট দিতে পারবেন। বাকিরা ধীরে ধীরে শংসাপত্র পাবেন।’’ উত্তর ২৪ পরগনায় ভোট হবে দ্বিতীয় পর্বে, ২৯ এপ্রিল। বিধি অনুযায়ী, সে জন্য ৯ এপ্রিলের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম তোলাতে হবে।দেরিতে শংসাপত্র পেলে ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার সুযোগ থাকবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শান্তনু বলেন, ‘‘সিএএ-তে আবেদনকারী অধিকাংশ মতুয়াই ঠিক সময়ে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাবেন। যাঁরা পাবেন না, তাঁদের নাম পরবর্তী কালে উঠবে।’’
মতুয়াদের সিএএ-তে নাম লেখানোর গোড়া থেকেই বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। দলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‘চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ দিয়ে বিজেপি তাঁদের সর্বনাশ করেছে। এখন ভোটের আগে কয়েক জনকে শংসাপত্র দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’’জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘যাঁরা ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ে শুনানিতে ডাকা হবে। সিএএ-র শংসাপত্র দেখালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাম উঠবে কি না, তা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পরে বলা যাবে।’’