Hemant Soren in Jhargram

সস্ত্রীক হেমন্ত সোরেনের কপ্টার ঢুকতে পারলই না ঝাড়গ্রামে! মোদীকে দুষে তৃণমূল বলল, ‘আদিবাসী বিরোধী’

তৃণমূলের অভিযোগ, সভা শেষে হেলিপ্যাডে যাওয়ার পথে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছে। কলেজ মোড়ে তিনি মুড়ি খাচ্ছিলেন। সে জন্য ঝাড়গ্রামে আরও বেশি সময় নিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৮
Hemant Soren in Jhargram

ঝাড়গ্রামে একই দিনে সভা ছিল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (বাঁ দিকে) এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কারণে তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারে ঝাড়গ্রামে সভায় পৌঁছোতেই পারলেন না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-র প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেন। রবিবার মোদীর ঝাড়গ্রাম সফর শেষে এমনই অভিযোগ করল তৃণমূল। তাদের দাবি, ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য ‘নো ফ্লাই জ়োন’ করে দেওয়া হয়েছিল। সে জন্যই সস্ত্রীক সোরেন শুধু কেশিয়াড়ি-তে সভা করেই রাঁচী ফিরে যান।

Advertisement

তৃণমূলের প্রার্থীদের প্রচারে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ সফর পূর্ব নির্ধারিত ছিল। আবার রবিবার ঝাড়গ্রাম বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তৃণমূলের অভিযোগ, সভা শেষে হেলিপ্যাডে যাওয়ার পথে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছে। কলেজ মোড়ে তিনি মুড়ি খাচ্ছিলেন। সে জন্য ঝাড়গ্রামে আরও বেশি সময় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য দিকে, তত ক্ষণে দাঁতন-কেশিয়াড়িতে সভা করে হেলিকপ্টারে ঝাড়গ্রামের লালগড়ে আসার জন্য প্রস্তুত ছিলেন হেমন্ত এবং কল্পনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জন্য তাঁদের হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে রাঁচীর দিকে রওনা দেন ঝা়ড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর স্ত্রী। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের সভা বানচাল করেছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এতেই মোদীর ‘আদিবাসী বিরোধী’ মনোভাব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।

জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সোরেনের সমর্থনে হেমন্তের সভার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তাঁরা। সভাস্থলে কর্মী-সমর্থকেরা চলে এসেছিলেন। সাঁওতালি ভাষায় হেমন্তের বক্তব্য শুনবেন বলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। কিন্তু অপেক্ষা করে করে ফিরে যান সকলে। ক্ষুব্ধ ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘‘ঝাড়গ্রামে আমাদের সভা বানচালের ষড়যন্ত্র করেছিল বিজেপি। ওরা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের সফর ভেস্তে দিয়েছে। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সভা রয়েছে বলে ‘নো ফ্লাই জ়োন’ করে দিয়েছিল। সেই কারণে হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার ঝাড়গ্রামের আকাশে উড়তে পারেনি। আমরা খুবই মর্মাহত, ধিক্কার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে। আমরা পুরো নিয়ম মেনেই অনুমতি নেওয়া সত্বেও সভা করতে পারলাম না।’’

আবার কেশিয়াড়িতেও সোরেন দম্পতি দেরিতে পৌঁছোনোর কারণ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তোলেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রামজীবন মান্ডি। তাঁর অভিযোগ, ‘‘পাশের ব্লক নারায়ণগড়ের বেলদাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা ছিল। তাঁর নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টারকে দীর্ঘ ক্ষণ আটকে রাখা হয়েছে।’’ অনেক পরে কেশিয়াড়ি পৌঁছে সংক্ষিপ্ত ভাষণে হেমন্ত তৃণমূল প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের পথে রওনা হন।

Advertisement
আরও পড়ুন