Freelancing in College

ইচ্ছে হলে কাজ করবেন, না হলে করবেন না! স্বাধীনতার অন্য নাম ফ্রিল্যান্স, শুরু করবেন কী ভাবে?

পড়াশোনা করতে করতেই নিজের ইচ্ছে মতো কাজের স্বাধীনতা পেতে পারেন! বিকল্প হতে পারে ফ্রিল্যান্সিং, কী ভাবে শুরু করবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৯

ছবি: এআই।

ধরা বাঁধা সময়ে চাকরি করতে পছন্দ করেন না অনেকেই, আবার পারিবারিক প্রয়োজনে অনেক পড়ুয়াকে রোজগারের খোঁজ করতে হয় পড়াশোনার পাশাপাশি। সে ক্ষেত্রে সুরাহা দিতে পারে ফ্রিলান্সিং। নির্দিষ্ট সময় কাজের বিনিময়ে রোজগার— এটিই ফ্রিলান্সিং-এর মূল বিষয়।

Advertisement

কাজটি কেমন?

ফ্রিল্যান্সিং করতে চাইলে একাধিক সংস্থার জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাতে হবে। নির্দিষ্ট চুক্তিতে নির্দিষ্ট প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী অস্থায়ী পদে কাজ করতে হয়। এ দেশে ফ্রিলান্সারদের কাজের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছিল ২০০০ থেকে। সে সময় ই-মেল মাধ্যমেই কাজ চলত। ২০১০-এর পর থেকে অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় নিজের পছন্দ এবং সময় অনুযায়ী কাজের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ২০১৫ থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়া মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং-এর প্রতি আগ্রহী হতে থাকেন পড়ুয়ারাও।

কী কাজ করতে হয়?

মূলত শিক্ষকতা, প্রুফ সংশোধন, সমাজমাধ্যম কিংবা ওয়েবসাইট-এর জন্য কন্টেন্ট লেখা, ভিডিয়ো এডিটিং, গ্রাফিক ডিজ়াইন, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বা ডিজ়াইন, ডেটা এন্ট্রি, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স-এর মতো কাজগুলিই ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ওয়েবসাইট, সংস্থা, পোর্টাল, প্ল্যাটফর্মগুলি ফ্রিল্যান্সিং-এর জন্য কর্মী খোঁজেন।

কারা করতে পারবেন?

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গেই এই কাজ করা যায়। এ জন্য শুধু দক্ষতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা-সহ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকা প্রয়োজন।

কোন বিভাগে কাজ করবেন?

যাঁরা লিখতে পারেন, কিংবা ছবি-ভিডিয়ো এডিট করতে পারেন— তাঁরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এডিটিং বিভাগে ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ খুঁজতে পারেন। পাইথন, কোডিং জানলে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টে সুযোগ মিলবে। অনলাইনে ক্লাস করানো কিংবা স্টাডি মেটেরিয়াল লিখে দেওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সারের চাহিদা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশের সংস্থাগুলিতেও কাজের সুযোগ মেলে।

কী কী বিষয়ে প্রস্তুতি প্রয়োজন?

১। ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ শুরুর জন্য প্রথমেই একটি সিভি বা জীবনপঞ্জি তৈরি করতে হবে। সেখানে উল্লেখ করতে হবে কী কী দক্ষতা রয়েছে, কোনও অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে যাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা নেই, তাঁরা কোর্সওয়ার্ক, প্রজেক্ট কিংবা ব্যক্তিগত কাজের নমুনা পেশ করতে পারেন।

২। ফ্রিল্যান্সারদের কাজের বাজার কেমন, কত টাকা উপার্জনের সুযোগ রয়েছে, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক হিসাবে কত টাকা চাওয়া যেতে পারে— তা নিয়ে একটু খোঁজ খবর নিতে হবে। প্রয়োজনে ইন্টারনেটের পাশাপাশি, বন্ধুবান্ধব কিংবা যাঁরা এই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা করে নেওয়া যেতে পারে ।

কাজ খুঁজবেন কী ভাবে?

ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য আলাদা ওয়েবসাইট রয়েছে। তাতে প্রোফাইল তৈরি করে নিজের দক্ষতা অনুযায়ী প্রজেক্ট খুঁজে নেওয়া যায়। খুঁজে পাওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রস্তাব লিখে পাঠাতে হয়। যিনি বা যে সংস্থা নিয়োগ করবে, তাঁরা ওই প্রস্তাব এবং জীবনপঞ্জি দেখে আগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়। সেই সময় চেষ্টা করতে হবে দ্রুত উত্তর দেওয়ার।

কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে?

  • কাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থীর প্রস্তাব আলাদা হওয়া প্রয়োজন। তাই প্রতি বার নতুন করে প্রস্তাব লেখাই ভাল।
  • কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হলে সময় মতো তা জানাতে হবে।
  • সময় মতো কাজ করতে হবে। কাজের সঙ্গে অন্য কোনও কিছুতে সময় দিলে চলবে না।
  • পরীক্ষার আগে কোনও বড় কাজের সুযোগ আসতেই পারে। কিন্তু দেখে নিতে হবে, তা যেন পরীক্ষার উপর প্রভাব না ফেলে।
  • এ ছাড়াও যে সংস্থা বা ব্যক্তির জন্য কাজ করছেন, তাঁর সঙ্গে পারিশ্রমিক, সময়ের মতো বিষয় নিয়ে শুরুতেই কথা বলে নিতে হবে। কত দিন পর পারিশ্রমিক মিলবে, কী ভাবে কাজ পাঠানো হবে, কত দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে— এই সমস্ত তথ্য সঠিক ভাবে না পাওয়া গেলে কাজ না করাই শ্রেয়।

সময় মতো কাজ, সঠিক ভাবে কথা বলা, কোনও বিষয় নিয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর জেনে নিতে পারলেই ফ্রিল্যান্সিং-এর পথ সহজ হয়ে উঠবে। তবে, এ ক্ষেত্রে বিদেশের কোনও প্রকল্পের কাজ হয়তো রাতেও করতে হতে পারে। তাই সময় ব্যবস্থাপনা করতে পারলেই এই পদ্ধতিতে রোজগারের পথ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন