ছোটপর্দায় আবার মিষ্টি সিংহ। ছবি: ফেসবুক।
মিষ্টি সিংহ। রাজপুত মেয়েটি বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ। যদিও দীর্ঘ দিন তিনি ছোটপর্দা থেকে দূরে। তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৫-এ। ‘ডায়মন্ড দিদি’ ধারাবাহিকে। সুশান্ত দাসের ‘ঘূর্ণি’ ধারাবাহিক দিয়ে ছোটপর্দায় ফিরলেন মিষ্টি। এই ধারাবাহিকে তিনি নায়কের দিদি।
লম্বা বিরতি। সময় যেন ডানা মেলে উড়ে গিয়েছে। তাল মিলিয়ে বদলেছে চারপাশ। টেলিপাড়ার পরিবেশ কতটা বদলালো? যেমন দেখে গিয়েছিলেন তেমনই আছে?
আনন্দবাজার ডট কম প্রশ্ন করেছিল মিষ্টিকে। অভিনেত্রী সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিয়েছেন, “অবশ্যই পরিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে। তাতে খুঁটিনাটি কাজ ভাল হচ্ছে। এর বেশি বড় বদল এখনও চোখে পড়েনি।” যাঁরা বছর তিনেক আগে হয়তো অভিনয়েই আসেননি, তাঁরা নায়িকা। মিষ্টি হয় ‘দিদি’ নয়তো ‘বৌদি’। নায়িকা হতে ইচ্ছা করে না? ইচ্ছা যে করে, সে কথা অস্বীকার করেননি তিনি। তবে অভিনেত্রী বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বললেন, “এখন খুব অল্পবয়সিরা নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করছেন। আমি আর সেই বয়সে নেই। ফলে, এখন আর নায়িকা হওয়ার উপায় নেই।” ‘দিদি’ বা ‘বৌদি’র চরিত্রে অভিনয় করেও নিজেকে প্রমাণ করা যায়, বিশ্বাস করেন অভিনেত্রী। তাই মন দিয়ে অভিনয় করতে চান। মিষ্টির কথায়, “বরাবর অভিনয়ে থাকতে চেয়েছি। আমার কোনও ছুঁতমার্গ নেই। তাই আরও আগেই বৌদি, দিদির চরিত্রে অভিনয় করেছি।”
‘ঘূর্ণি’ ধারাবাহিকে মিষ্টি সিংহ। ছবি: ফেসবুক।
টেলিপাড়ায় প্রত্যাবর্তনের আগে দুটো বড় ঘটনা ঘটেছে। এক, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু। আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে ডুবে যান তিনি। দুই, ধারাবাহিকের প্রযোজক-পরিচালক সুশান্তের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছেন সুকন্যা দত্ত গুহ। প্রত্যাবর্তনের আগে দুটো ঘটনা মনকে দুর্বল করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মিষ্টি ভয় পেয়েছিলেন? সপ্রতিভ জবাব এল, “জানেন, এখন আউটডোর শুটিংয়ে অ্যাম্বুল্যান্স, ডাক্তার থাকেন!” একটু থেমে যোগ করেছেন, “রাহুলদা টেলিপাড়ার পরিবেশটাই বদলে দিয়ে চলে গেল। এখন সবাই আরও বেশি সজাগ। যদিও এটা কাম্য ছিল না।” সুশান্ত প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, “বরাবর দেখেছি, সুশান্তদা সেটে থাকেন সবার কাজ দেখার জন্য। হাতে ধরে সবাইকে অভিনয় বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। এর বাইরে আর কিছু করতে তাঁকে দেখিনি।”
মিষ্টি তাই সুশান্তের উপরে ভরসা রেখে তাঁরই ধারাবাহিকে ফিরেছেন। অভিনেত্রীর যুক্তি, “বেশ কিছু দিন গ্যাপ পড়ে গেলে অনেকে ভুলে যান। বা নিয়মিত কাজ করব কি না, ভাবেন। চট করে কাজ দিতে চান না। সুশান্তদা কিন্তু তাঁর কাছে কাজ করা প্রত্যেককে মনে রাখেন। যদি দেখেন, ওই ব্যক্তি সত্যিই কাজ করতে চাইছেন, কখনও তাঁকে ফেরান না।” উদাহরণ হিসাবে নিজের কথা তুলে ধরেছেন মিষ্টি।