(বাঁ দিকে) দীপিকা পাড়ুকোন, (ডান দিকে) ইমরান হাশমি। ছবি: সংগৃহীত।
দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না, মা হওয়ার পরে শর্ত দিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন। তার পর থেকে একাধিক কাজ হারিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে বলিউডের অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন। দীপিকার আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার প্রসঙ্গে ইমরান হাশমির তুলনা টানলেন ‘আশিকী ২’ খ্যাত পরিচালক মোহিত সুরি।
আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না বলে সম্প্রতি দীপিকাকে সন্দীপ রেড্ডী বাঙ্গার আগামী ছবি ‘স্পিরিট’ থেকে সরানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই বলিউডের খ্যাতনামীরা তাঁদের মতামত রেখেছেন। আলোচনা প্রসঙ্গে উঠে এসেছে অক্ষয়কুমারের কথাও। তিনিও বরাবর আট ঘণ্টার বেশি কাজ করেন না। যদিও আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার ক্ষেত্রেই নাকি পাল্লা ভারী। কেউ সরাসরি কেউ আবার খানিক সূক্ষ্ম ভাবে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার পক্ষে। পরিচালক মোহিত এই প্রসঙ্গে জানান, এটা এখন যেন অহঙ্কার ও জেদের লড়াই হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, অভিনেতাদের কাজের মানের ওপর জোর দেওয়া উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, কোনও ইউনিট যদি ১২ ঘণ্টার শিফটে কাজ করে, তবে লোডিং ও আনলোডিং সহ তাদের প্রায়ই ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। অথচ, বাড়ি ফেরার আগে তারা মাত্র ১২ ঘণ্টার পারিশ্রমিক পায়।
মোহিত আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন কেউ শিফটের সময় নির্ধারণ করে দেবে। তিনি আরও যোগ করেন, কাজের সময় কতটা হবে, সেটা শুধু অভিনেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং পুরো ইউনিটের চাহিদাও বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এই বিতর্কটিকে অভিনেতাকেন্দ্রিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, কলাকুশলীদের কথাও ভাবতে হবে।’’ তিনি নিজে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। তাই তিনি বোঝেন কষ্টটা। তাঁর কথায়, ‘‘একজন অভিনেতা প্রস্তাবটি দিয়েছেন বলেই আমরা এতটা গম্ভীর ভাবে বিষয়টা দেখাচ্ছি। কিন্তু আসুন, এর মানবিক দিকটাও ভাবি।’’
মোহিত জানান, তিনি অভিনেতাদের দিয়ে চব্বিশ ঘণ্টাও কাজ করেছেন, অভিনেতারা মানা করেননি। মোহিতের কথায়, ‘‘প্রয়োজনে আমি অভিনেতাদের দিয়ে ২৪ ঘণ্টাও কাজ করিয়েছি। যখন আমরা ‘আওয়ারাপন’-এর শুটিং করছিলাম, তখন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ছাদে আমাদের একটি অত্যন্ত দামী লোকেশন ছিল, যা আমরা মাত্র ২৪ ঘণ্টার জন্য পেয়েছিলাম। আমার মনে আছে, ইমরান হাশমি আমার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছিলেন।’’ দিন কয়েক আগে পরিচালক অভিনেতা কুণাল খেমুও আট ঘণ্টা কাজের বিষয়টির তির্যক সমালোচনা করেন। এ বার মোহিত যেন সেই পথেই হাঁটলেন।