(বাঁ দিক থেকে) মণিরত্নম, ফরাহ খান এবং গুলজ়ার। ছবি: সংগৃহীত।
শাহরুখ খান ও মনীষা কৈরালা অভিনীত ‘দিল সে’ ছবির গানগুলি এখনও দর্শকমনে গেঁথে আছে। ‘সতরঙ্গী রে’ অন্যতম জনপ্রিয় গান। মণিরত্নম তাঁর ‘দিল সে’ ছবির মাধ্যমে এক সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রেমের গল্প বলেছিলেন। প্রায় দুই দশক পরেও এই ছবি নিয়ে আলোচনা হয়। সম্প্রতি, এই সিনেমা নিয়ে এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন ফরাহ খান।
সোনু নিগমের কণ্ঠে ‘সতরঙ্গী রে’ গানের জাদুতে বুঁদ হয়েছিল ভারতীয় যুবসমাজ। কিন্তু, সেই গানের শুটিং করতে গিয়েই নাকি বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল ফরাহকে। এই গানের শুটিং হয়েছিল লাদাখে। নৃত্যপ্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন ফরাহ। গানটি লেখেন গুলজ়ার। এই গানের কথায় রয়েছে একাধিক উর্দু শব্দ। চলতি হিন্দি গানের কথার সঙ্গে বিশেষ মিল নেই। এই গানের মাধ্যমে প্রেমের সাতটি পর্যায়কে তুলে ধরেন গুলজ়ার। কিন্তু, গানের কথা এমনই, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচের ‘স্টেপ’ দিতে হিমশিম খেতে হয় ফরাহকে। গানের একটা বর্ণও নাকি তাঁর বোধগম্য হচ্ছিল না। ফরাহের তখন মাথায় হাত। ভাবতে থাকেন, “এই গানে কী করে কোরিয়োগ্রাফি করব”? শেষ বিপদে পড়ে দ্বারস্থ হন নিজের মেসোমশাই জাভেদ আখতারের।
ফরাহের কথায়, ‘‘একে লাদাখে শুটিং। তার উপরে পরিচালক মণিরত্নম হিন্দি বোঝেন না। ছবির চিত্রগ্রাহকও হিন্দি জানেন না। এআর রহমানেরও প্রায় একই অবস্থা। তার উপর গুলজ়ার যে কী লিখেছেন, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি তখন আমার মেসোকে ফোন করি। শেষে তিনিই বোঝান গানের মানে। তার পরে নাচের কোরিয়োগ্রাফি ঠিক হয়।’’ আসলে গানের পরতে পরতে ছিল রূপক, আবেগ। নানা স্তরে তার মানে ভাগ করা যায়। ফলে তা থেকে সরাসরি নাচের ভঙ্গিমা ভাবতে বেগ পেতে হয় ফরাহকে।