One Year Of Bengali Mega Parashuram Ajker Nayak

তৃণার সঙ্গে এক বছর ‘সংসার’ করা হয়ে গেল! আর রোমান্স নেই, এখন আমরা শুধুই ভাইবোন: ইন্দ্রজিৎ

এক বছর ধরে গুছিয়ে সংসার করছেন তাঁরা। বাইরে তিনি ‘সুপারম্যান’। লুঙ্গি পরে বাজারে যান! ইন্দ্রজিৎ-তৃণার ‘দাম্পত্য’-এর খুঁটিনাটি আনন্দবাজার ডট কম-এ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৭
পর্দায় ‘তটিনী’ তৃণা সাহা আর ‘পরশুরাম’ ইন্দ্রজিৎ বসুর ‘দাম্পত্য’-এর উদ্‌যাপন!

পর্দায় ‘তটিনী’ তৃণা সাহা আর ‘পরশুরাম’ ইন্দ্রজিৎ বসুর ‘দাম্পত্য’-এর উদ্‌যাপন! নিজস্ব ছবি।

লাল সালোয়ার-কামিজে সাদা নকশাকাটা। ‘তটিনী’ সেজেছে এ ভাবেই। লাল চেক শার্ট আর রোদচশমায় ঝকঝকে তার কর্তা ‘পরশুরাম’। দুই সন্তান তাদের। তার পরেও প্রেম অমর! যদিও সে কথা প্রকাশ্যে ভাঙতে রাজি নয় কর্তা-গিন্নি।

Advertisement

এখনও কি প্রথম দিনের মতোই ভাব-ভালবাসা আছে? প্রশ্ন শুনে লাজুক হাসি উভয়ের ঠোঁটেই। জবাব দিলেন ‘পরশুরাম’ ইন্দ্রজিৎ বসু। বললেন, “শুনেছি, এক বছর চুটিয়ে দাম্পত্যের পর নাকি স্বামী-স্ত্রী ভাইবোন হয়ে যায়? ‘তটিনী’ তৃণা সাহার সঙ্গে স্টার জলসায় এক বছর ‘পরশুরাম: আজকের নায়ক’-এ অভিনয় করে সেই দশা আমার!” দাসানি ২ স্টুডিয়োর মাঠে বেলুন দিয়ে সাজানো চারপাশ। প্রযোজক-পরিচালক স্নেহাশিস চক্রবর্তীর এই ধারাবাহিক শুক্রবার এক বছর পূর্ণ করল। তারই উদ্‌যাপনে শুটিংয়ের ফাঁকে জোট বেঁধেছেন সবাই। আমন্ত্রিত সাংবাদিকেরা। তাঁদের সামনে গোপন কথা ফাঁস করতেই লালচে আভা তৃণার গালে।

কর্তা-গিন্নি মিলে দুরন্ত অ্যাকশন করছেন! তার জন্য নাকি ওজনও ঝরাচ্ছেন তৃণা। বলতেই ফের সলজ্জ হাসি। নায়িকার মৃদু জবাব, “চেষ্টা করছি।” কথার ফাঁকে তাঁর পর্দার মেয়ে ‘পিকু’ আয়শ্রী মুখোপাধ্যায় উপস্থিত। তাকে দেখেই গাল টিপে আদুরে গলায় তৃণা বলে উঠলেন, “ধারাবাহিকের ব্যাঙ্কিং শেষ। আমরা শনি-রবিবারেও শুটিং করব।”

সেটে  শুটিংয়ে ব্যস্ত ‘পরশুরাম’।

সেটে শুটিংয়ে ব্যস্ত ‘পরশুরাম’। নিজস্ব ছবি।

মা-মেয়েকে দেখতে দেখতে ইন্দ্রজিতের মুখে আলগা হাসি। খুনসুটিতে মাতলেন, “এই যে মা-মেয়ের এত ভাব দেখছেন, সবটাই কিন্তু ‘অভিনয়’!”

ছোটপর্দা মানেই নারীকেন্দ্রিক গল্প। ‘পরশুরাম আজকের নায়ক’ পুরুষদের কথা বলছে। তার পরেও রেটিং চার্টে ধারাবাহিকটি এক নম্বর। কেন? জবাবে ইন্দ্রজিতের মত, “যে পুলিশ অফিসার বাইরে দোর্দন্ডপ্রতাপ, সে-ই বাজার করতে যায় লুঙ্গি পরে! গুছিয়ে সংসার করে। এই মধ্যবিত্ত মানসিকতাই দর্শককে ছুঁয়ে গিয়েছে।” পাশাপাশি, তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন ঈশ্বরকেও। আনন্দবাজার ডট কম-কে হাসতে হাসতে বলেছেন, “প্রচণ্ড পরিশ্রম করি। কম পারিশ্রমিক নিই। আমার তা-ই কাজের অভাব থাকে না। এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে প্রত্যেকটি ধারাবাহিক হিট।” চরিত্র বাছার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনও ভাবনা কাজ করে? “যে চরিত্র আমার মন ছুঁয়ে যায়, আমি সেটাই করি। এ ক্ষেত্রে মনকে প্রাধান্য দিই। জানি, মনের যেটা ভাল লাগবে সেটা দর্শকের মনও ছুঁয়ে যাবে। স্নেহাশিসদার প্রত্যেকটা কথা অনুসরণ করি।”

ইন্দ্রজিৎ যখন কথা বলছেন, একটু দূরে দাঁড়িয়ে আনমনা তৃণা। আগামী দিনে ‘তটিনী’ কি আরও বড় চমক আনতে চলেছে? রহস্যময় হাসি হেসে পাশ কাটানোর আগে নায়িকার জবাব, “চমকের পর চমক আসছে।” সেটেই শোনা গেল, নায়িকা আপাতত নিখোঁজ। ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে পরশুরাম। যদিও পরে জানা যাবে সংসারী মেয়েটিও ‘স্পেশ্যাল কপ’! তত ক্ষণে পোলাও-মাংসের গন্ধে ম-ম করছে সাজানো মাঠ। নায়িকাকে পাশে নিয়ে খাবার টেবিলে নায়ক। গরম গরম ফিশ ফ্রাইয়ে কামড় বসাতেই ঝলসে উঠল ছবিশিকারিদের ক্যামেরা।

ছোটপর্দায় ‘পুলিশ ব্রহ্মাণ্ড’-এর আস্বাদ। সঙ্গে অ্যাকশন, সত্যিকারের পুলিশ অফিসার অলোক সান্যালের অভিনয়। সব মিলিয়েই কি এক বছর পরেও আলোচনায় ‘পরশুরাম’?

ধারাবাহিকে ভরত কল নায়িকার কাকা। তিনি বললেন, “অবশ্যই বড়পর্দার ছোঁয়া এবং ছায়া— দু-ই আছে। আর আছে ফেলে আসা বাঙালিয়ানা। দর্শক একটি ধারাবাহিকে এত কিছু পেলে কেন দেখবে না?” ‘তটিনী’র কাকিমার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুচরিতা বসু। তিনি বললেন, “নায়কপ্রধান গল্প হলেও নায়িকাকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে না। তার সাংসারিক জীবনের লড়াইয়ের পাশাপাশি রয়েছে ছদ্মবেশে ‘পুলিশ অফিসার’-এর গুরু দায়িত্ব পালন। মেয়েরা একসঙ্গে এত কিছু সামলানোর স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্ন পর্দায় দেখতে পেলে বাস্তবে তাঁদের বিশ্বাস বাড়ে।”

অনুরাগে ‘পরশুরাম-তটিনী’।

অনুরাগে ‘পরশুরাম-তটিনী’। নিজস্ব ছবি।

তত ক্ষণে সাজানো টেবিলে বড় কেক হাজির। ধারাবাহিকের সব অভিনেতা-কলাকুশলী একে একে জড়ো হয়েছেন। এক বছরের ‘সংসার’-এর কথা উঠতেই ‘তটিনী’ হেসে তাকাল ‘পরশুরাম’-এর দিকে। সে দিকে এক ঝলক তাকিয়ে চোখ থেকে রোদচশমা খুলল ‘পরশুরাম’। বলে উঠল, “যে দিন থেকে তটিনীর হাতে বন্দুক দেখেছি, সে দিন থেকে আগে কথা বলা ছেড়ে দিয়েছি! তাতে ঝগড়া কমেছে। প্রেম-ভালবাসা বেড়েছে। ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ করার দায়িত্বও বেড়েছে!” তার পরেই হাসতে হাসতে ‘পুলিশ গিন্নি’কে বলে উঠলেন, “তুমিই বলো”।

Advertisement
আরও পড়ুন