Kirtoner Por Kirton Released In Star Jalsha

সিঙ্গল স্ক্রিনে মুক্তির সাত দিনের মধ্যেই ছোটপর্দায় ‘কীর্তনের পর কীর্তন’! কী বলছেন নীলরতন?

ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী মাল্টিপ্লেক্সে ছবিমুক্তির আট সপ্তাহের মধ্যে ছোটপর্দায় ছবিমুক্তি ঘটানো যাবে না। ‘কীর্তনের পর কীর্তন’ কী করে মুক্তি পেল?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪৪
স্টার জলসায় মুক্তি পেল ‘কীর্তনের পর কীর্তন’।

স্টার জলসায় মুক্তি পেল ‘কীর্তনের পর কীর্তন’। ছবি: ফেসবুক।

বাস্তবেও নাকি ‘কীর্তনের পর কীর্তন’ হচ্ছে! সাত দিন আগে বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছে অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের ‘কীর্তন’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির দ্বিতীয় ছবি ‘কীর্তনের পর কীর্তন’। রবিবার সেই ছবি মুক্তি পেল ছোটপর্দায়, স্টার জলসায়।

Advertisement

ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, মাল্টিপ্লেক্সে ছবিমুক্তির আট সপ্তাহের মধ্যে সেই ছবি ছোটপর্দায় দেখানো যায় না। কারণ, ছোটপর্দায় বা ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ছবিটি দেখতে পেলে দর্শক আর প্রেক্ষাগৃহে যাবেন না। এতে হলমালিকদের ক্ষতি। ছবির প্রযোজক নীলরতন দত্ত কি সেই নিয়ম মানলেন? বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিতে আলোচনা চলছে।

সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল ছবির প্রযোজকের সঙ্গে। নীলরতনের কথায়, “এই নিয়ম জানি। নিয়ম ভাঙব না বলেই সিঙ্গল স্ক্রিনে ছবিমুক্তি ঘটিয়েছি। ছবিটি অশোকা, মিনার, বিজলি, প্রিয়াতে মুক্তি পেয়েছে। স্ক্রিঙ্গল স্ক্রিনে ছবিমুক্তি নিয়ে বিশেষ কোনও নিয়ম নেই। আমিও কোনও অনৈতিক কাজ করিনি।” কেন এত তাড়াতাড়ি স্যাটেলাইটে দেখানোর ব্যবস্থা করলেন তিনি? তার জবাবও প্রযোজক দিয়েছেন। নীলরতনের কথায়, “শুধুই বাণিজ্য নয়। ছবিটি যাতে বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছোতে পারে, সেই ভাবনাও ছিল। তার থেকেই এই পদক্ষেপ।”

ছোটপর্দায় কেন এই ছবি বেশি সংখ্যক দর্শক দেখবেন? কী কী নতুন উপাদান আছে? এই প্রসঙ্গে প্রযোজকের সংযোজন, “‘কীর্তন’ ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘরের গল্প বলে। নতুন ছবিতে যেমন দেখা যাবে, যে শ্বশুর আর বৌমার মধ্যে নিত্য লাঠালাঠি, সেই বৌমা-ই দায়িত্ব নিয়ে শ্বশুরমশাইয়ের বিয়ে দিচ্ছে! পর্দায় এই দুই চরিত্রে যথাক্রমে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, অরুণিমা ঘোষ। পরানদার স্ত্রীর ভূমিকায় লাবণী সরকার। অরুণিমার স্বামী গৌরব চট্টোপাধ্যায়।” তাঁর মতে, বাঙালি মন খুলে হাসতে ভুলে গিয়েছেন। এই ধরনের ছবি বাঙালির মুখে হাসি ফিরিয়ে দেবে।

পাশাপাশি, এর আগে আনন্দবাজার ডট কম-কে নীলরতন জানিয়েছিলেন, জাতীয় স্তরের চ্যানেলের সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ছবি ওই চ্যানেলকে বিক্রি করতে হবে। সেই চুক্তির আওতায় ‘কীর্তনের পর কীর্তন’ও ছিল। নীলরতনের আরও যুক্তি, এই মুহূর্তে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বাংলা ছবি দেখার দর্শক কমে যাচ্ছে। অন্য দিকে, যে কোনও প্রযোজক চান, তাঁর ছবি দর্শক দেখুন। এর আগে, ‘কীর্তন’ ছবিটিও একই ভাবে বড়পর্দার পাশাপাশি ছোটপর্দায় দেখানোয় ৫০ লক্ষেরও বেশি দর্শক দেখেছিলেন। সেই ঘটনাও তিনি মনে রেখেছেন।

জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, অরিজিৎ দত্ত, নীলরতন দত্ত।

জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, অরিজিৎ দত্ত, নীলরতন দত্ত। ছবি: ফেসবুক।

মাল্টিপ্লেক্সের নিয়ম সিঙ্গল স্ক্রিনে নেই। তাতে কি আখেরে ক্ষতি সিঙ্গল স্ক্রিনের হলমালিকদের?

প্রশ্ন করা হয়েছিল ‘বিনোদিনী’র (সাবেক স্টার থিয়েটার) মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়কে। তিনি এ রকম মনে করেন না। জয়দীপের কথায়, “ছোটপর্দায় একদিন দেখানো হবে। প্রেক্ষাগৃহে সেই ছবি কম করে সাত দিন চলবে। ছবি ভাল হলে দর্শক ছোটপর্দায় দেখালেও বড়পর্দায় দেখবেন। ছবি খারাপ হলে ছোটপর্দাতেও দেখবেন না।” মাল্টিপ্লেক্সের নিয়ম সিঙ্গল স্ক্রিনে চালু করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না।

জয়দীপের কথার ভিন্ন সুর প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক অরিজিৎ দত্তের বক্তব্যে। সাফ জানিয়েছেন, এ রকম যে কিছু হতে পারে সে সম্পর্কে তিনি একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না! বিষয়টি জানার পর তিনি কী করবেন? অরিজিতের কথায়, “এখন কিছুই করার নেই আর। সপ্তাহের মধ্যিখানে তো কোনও ছবি নামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই আমায় ‘কীর্তনের পর কীর্তন’ দেখাতেই হবে।” মাল্টিপ্লেক্সের নিয়ম সিঙ্গল স্ক্রিনের জন্যও চালু হোক, চান অরিজিৎ? প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক বললেন, “সর্বভারতীয় সিনে ফেডারেশনের কাছে কোনও ভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা যেতেই পারে। যদি তাতে কোনও সুরাহা হয়।”

Advertisement
আরও পড়ুন