Gangasagr Mela

গঙ্গাসাগর মেলাশেষে সাগরতট দ্রুত দূষণমুক্ত করাই চ্যালেঞ্জ, ১২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সরাল প্রশাসন

মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাফাইকর্মীরা মাঠে নেমে পড়ে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। সংগ্রহ করা সমস্ত বর্জ্য সাগর ব্লকের প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২২
গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হওয়ার পর দূষিত সাগরতটকে দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টায় প্রশাসন।

গঙ্গাসাগর মেলা শেষ হওয়ার পর দূষিত সাগরতটকে দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টায় প্রশাসন। ছবি - পিটিআই।

গঙ্গাসাগর মেলা শেষ। তবে তটভূমি ও মেলাপ্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। তা থেকে ছড়াতে পারে দূষণ। তাই তা দ্রুত সরিয়ে গঙ্গাসাগরকে পরিচ্ছন্ন অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলা শেষ হওয়ার পর প্রায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই প্লাস্টিকজাত সামগ্রী— প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও নানা ধরনের মোড়ক। অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এই সব সামগ্রী এনেছিলেন এবং ব্যবহার করে যত্রতত্র ফেলে রেখে গিয়েছেন।

Advertisement

মেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাফাইকর্মীরা মাঠে নেমে পড়ে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। সংগ্রহ করা সমস্ত বর্জ্য সাগর ব্লকের প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর যেখানে মোট বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১১১ মেট্রিক টন, এ বছর তা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের মতে, এ বছর পুণ্যার্থীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ হওয়াতেই বর্জ্যের পরিমাণও বেড়েছে। এ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল। ডাস্টবিনের আশপাশে এআই প্রযুক্তি-সহ সিসিটিভি বসানো হয়। ডাস্টবিন উপচে পড়লেই সেই ছবি কন্ট্রোল রুমে পাঠিয়ে সতর্ক করেছে ক্যামেরা। এর পর দ্রুত সাফাইকর্মীদের পাঠিয়ে বর্জ্য সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন প্রায় এক হাজারের মতো অ্যালার্ট এসেছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

সৈকত, পিলগ্রিম শেড, মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— প্রায় সর্বত্রই প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ চোখে পড়েছে। কোথাও খাবারের প্যাকেট, কোথাও জলের বোতল, আবার কোথাও পলিথিন পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। দিনের শেষে সমুদ্রতটেও এইসব আবর্জনা জমে থাকায় তা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত কর্মী নামাতে হয়েছে।

মেলা চলাকালীন প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাগও দেওয়া হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর প্লাস্টিক ব্যবহার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হয়নি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “এত মানুষের ভিড়ে কে কোথায় কী ফেলছে, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করেছি সময়মতো সব বর্জ্য সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার রাখতে। তীর্থযাত্রীদের সচেতনতার অভাবে মেলাপ্রাঙ্গণ দূষিত হলেও দ্রুত তা দূর করে গঙ্গাসাগরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর কাজ চলছে।”

Advertisement
আরও পড়ুন