রাম কপূর। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেতা রাম কপূরকে এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে ‘লকআপ’ নামের একটি রিয়্যালিটি অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠান প্রবেশ করতে না করতেই বিতর্কে জড়ালেন তিনি। অভিনেতার একটি মন্তব্য ঘিরে শোরগোল। তিনি জানান, প্রতারণা কোনও ভাবেই বিয়ে ভাঙার কারণ হতে পারে না। কোনও দম্পতি একে অপরকে ভালবাসলেও, কেউ ভুলবশত প্রতারণা করে ফেলতেই পারে। তা হলে সেই বিয়ে ভাঙার কোনও কারণ নেই।
রামের মন্তব্য শুনে অপর প্রতিযোগী শ্রেয়া কালরার প্রশ্ন, যদি তিনি জানতে পারেন যে তাঁর সঙ্গী তাঁকে ঠকিয়েছেন! তা হলে কি তিনিও অন্য সম্পর্কে জড়াবেন? তাতে আপত্তি জানান রাম। তিনি জানেন, বিবাহিত জীবন বা বৈবাহিক সম্পর্ক সহজ নয়। তাই বিয়ে থেকে বেরিয়ে যাওয়াও সহজ নয়। রামের কথায়, ‘‘না, নিজেদের সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে হবে। একটা কথা বলি শোনো, তুমি যদি সত্যিই তোমার সঙ্গীকে ভালবাসো, তা হলে কোনও কিছুতেই বিয়ে ভাঙতে পারে না। বিয়ে কঠিন বিষয়, এটি একটি সফর। বিয়ের যত্ন নিতে হয়, প্রতিদিন।’’
দীর্ঘ দাম্পত্যজীবনে সঙ্গী যদি কখনও অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়, তা হলে সেটা ভুলবশত করা পদক্ষেপ, মনে করেন রাম। একটা ভুল কখনও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না, মত তাঁর। অভিনেতার কথায়, ‘‘কখনও কখনও ২০-২৫ বছরের বিবাহিতজীবনে ভাল সময় আর খারাপ সময় আসে। খারাপ সময়ে যদি ভুল করে এক জন কিছু করেও ফেলে, আর যদি আপনি তাঁকে ছাড়া বা আপনাদের সন্তানদের ছাড়া বাঁচতে না পারেন, তা হলে সময় সব কিছু ঠিক করে দেয়। কোনও কিছুই সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। কখনও কখনও ভুলবশত এমন হয়ে যায়।’’ রামের মতের সঙ্গে সহমত হননি অপর প্রতিযোগী আকাঙ্ক্ষা চামোলা।
মাসকয়েক আগে কাজল ও টুইঙ্কল খন্নাও নিজেদের অনুষ্ঠানে প্রতরণা প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁদের মতে, সম্পর্কে থাকাকালীন অন্য কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া মানেই প্রতারণা নয়। কিন্তু মানসিক ভাবে অন্য কারও সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে, তা প্রতারণা বলেই মনে করেন কাজল-টুইঙ্কল। সেই সময়ে দুই অভিনেত্রীর চিন্তাভাবনা প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করে রামের স্ত্রী গৌতমী বলেন, ‘‘যে কোনও প্রতারণাই আমার কাছে অন্যায়। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। টুইঙ্কল যেটা বলেছিলেন, সেটাও ওঁর নিজস্ব ভাবনা। সেটাকে আমি সম্মান করি। কিন্তু যে কোনও প্রতারণাকেই আমি প্রতারণা বলেই মনে করি।” যদিও এখন স্বামীর মন্তব্যের পরে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি।
রামের কথা শুনে ক্ষিপ্ত নেটপাড়া। এক জন লেখেন, ‘‘একেবারে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা।’’ কেউ আবার লেখেন, ‘‘অসহ্য মানসিকতা। এগুলো শুনতেই ভাল লাগে না।’’