আশার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিল্পীরা! এআই সহায়তায় প্রণীত।
আট দশক ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। অবশেষে সেই কণ্ঠ থেমে গেল। তবে তাঁর অনুরাগীদের কাছে তাঁর কণ্ঠ চিরন্তন। রবিবার আশা ভোসলের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই শোকের আবহ সঙ্গীতমহলে। হিন্দি, বাংলা, তামিল, মলয়ালম, মরাঠি-সহ অসংখ্য ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। তাই শোকস্তব্ধ সমগ্র সঙ্গীতজগতের মানুষ।
আশা ভোসলের সঙ্গে বলিউডের ছবিতে একাধিক ডুয়েট গেয়েছেন উদিত নারায়ণ। ‘লগান’ ছবিতে তাঁদের গান ‘রাধা ক্যায়সে না জ্বলে’ আজও জনপ্রিয়। তাই আশার প্রয়াণে বাকরুদ্ধ উদিত। তিনি বলেন, “বলিউড সঙ্গীতের ইতিহাসে অন্যতম নাম তিনি। আশাজি যেন ভগবানের মতো। ছোটবেলা থেকেই ওঁর গান শুনেছি। আমি তখন ভাবিনি, মুম্বই গিয়ে এত বড় মাপের শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে পারব। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ওঁর সঙ্গে বহু গান গাইতে পেরেছি। আমার পুত্র আদিত্যও ‘রঙ্গিলা রে’ গানটি গেয়েছিল আশাজির সঙ্গে।” রেকর্ডিং স্টুডিয়োর স্মৃতি হাতড়ে উদিত বলেন, “সে সব দিন ইতিহাসে লিখে রাখার মতো। বাঘিনির মতো জীবনযাপন করেছেন। যেমন কাজ করেছেন, তেমন ওঁর খাওয়াদাওয়া, জীবনযাপনও ছিল দারুণ। নিজেও কী ভাল রান্না করতেন! এক বার আমার জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও এসেছিলেন। সব স্মৃতিতে থেকে যাবে।”
আশা ভোসলের সঙ্গে উদিত। ছবি: সংগৃহীত।
আশা ভোসলের গানের সঙ্গে তাঁর আরও একটি গুণ অনুপ্রাণিত করেছিল গায়িকা অন্তরা মিত্রকে। তাঁর কথায়, “আশাজি খুবই স্পষ্টবক্তা ছিলেন। ওঁর সঙ্গে আমার বহু বার দেখা হয়েছিল। আশাজির ৮৫তম জন্মদিনের ছোটপর্দার এক অনুষ্ঠানে ওঁর সামনে ওঁর গান গেয়েছিলাম আমরা অনেকে। উনি সেই দিন খুব স্নেহ করেছিলেন। আমার সঙ্গে বাংলায় কথা বলেছিলেন।” সেই দিন রান্না নিয়েও অন্তরার সঙ্গে কথা বলেছিলেন গায়িকা। অন্তরা সেই দিনটি মনে করে বলেন, “সর্ষে দিয়ে মাছ রান্নার কথা বলেছিলেন। রান্না নিয়েও ওঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল। আর এক বার বিমানবন্দরে দেখা হয়েছিল। অনেক গল্প করেছিলেন। রাতের উড়ান ছিল। কিন্তু ওঁর সাজ ছিল পরিপাটি। ওঁর উপস্থিতিতেই একটা ঔজ্জ্বল্য ছিল।”
গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায় শোকাতুর কণ্ঠে জানান, তাঁর সঙ্গীতজীবন জুড়ে থেকেছেন আশা ভোসলে। প্রয়াত গায়িকার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকারের কথাও মনে পড়ে যায় জোজোর। গায়িকা বলেন, “শুরুর দিকে বাপ্পী লাহিড়ীর সঙ্গে আমি সহ-গায়িকা হিসাবে কাজ করতাম। তখন দু-একটি অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিসেন। সেই ভাবেই ওঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। আমার তখন ১৫-১৬ বছর বয়স। তখন আশাজির সঙ্গে গিয়ে কথা বলার সাহস হয়নি। এক বার প্রণাম করেছিলাম, মনে আছে। পরে ওঁর সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলে আফসোস রয়ে গেল। ওঁর গান শুনে আমি অনেক কিছু শিখেছি।” আশা ভোসলের বহু গান নতুন করে গেয়েছিলেন জোজো। তাই মঞ্চে তাঁর কাছে বিশেষ ভাবে আশা ভোসলের গাওয়া গানের অনুরোধ আসত।
বহু ছবিতে অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে আশা ভোসলের গান। তাই রবিবারের দুপুরে গায়িকার প্রয়াণের খবরে অভিনেত্রীরও মন ভার। অভিনেত্রী বলেন, “আশাজির মতো নক্ষত্রেরা মহাকাশ থেকে মাঝেমধ্যে পৃথিবীর মাটিতে খসে পড়েন। ওঁর শরীর ভাল নেই, খোঁজ পেয়েছিলাম। হয়তো চলে যাওয়ার সময় হয়েছিল। কিন্তু এমন শিল্পীরা কখনও চলে যান না। সঙ্গীতের মধ্যেই ওঁরা থেকে যান। ওঁর গানের আমি লিপ দিতে পেরেছিলাম, এ আমার বড় পাওনা। আমার বিশ্বাস, তিনি যেখানেই থাকবেন, সঙ্গীতের মধ্যে থাকবেন।”
বাংলা গানের জগতেও বহু শিল্পী আশা ভোসলের দ্বারা অনুপ্রাণিত। তাঁর গান সমৃদ্ধ করেছে বহু শিল্পীকে। শোকাচ্ছন্ন রূপঙ্কর বাগচীও। গায়কের কথায়, “আশাজি তো সুস্থ সবল ছিলেন। মুম্বইের সঙ্গীতজগতের বন্ধুদের থেকেই জানতে পারি, উনি তো এখনও অনুষ্ঠান করতেন। প্রায়ই রেকর্ডিং স্টুডিয়োয় যেতেন। আমি চিরকাল আশা ভোসলের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ওঁর মতো বহুমুখী শিল্পী আজও ভারতে কেউ নেই। গজ়ল, ভজন, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে পপ, ক্যাবারে সব গেয়েছেন। আসন্ন প্রজন্মের শিল্পীরাও ওঁর গান শুনে সমৃদ্ধ হবে। ওঁর গান আমাদের কাছে থেকে যাবে।” রূপঙ্কর জানান, শৈশবে আশার কণ্ঠে ‘চোখে চোখে কথা বলো’ শুনলেই তাঁর মন ভাল হয়ে যেত।