Swarup Biswas Arrested

‘অবশেষে চোখের জলের দাম পেলাম’! স্বরূপ গ্রেফতার হতেই বললেন টলিউডের রূপটানশিল্পী সেই অভিযোগকারিণী

সরকার বদলের আগে ভয়ের চোটে অনেক কথাই বলতে পারেননি অভিযোগকারিণী। তিনি জানান, কেবল চোখের জল ফেলেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ০০:৩৯
থানায় স্বরূপ বিশ্বাস।

থানায় স্বরূপ বিশ্বাস।

অবশেষে স্বস্তি পেলেন তিনি। চোখের জল মুছে চওড়া হাসি হাসছেন। তাঁর করা অভিযোগের ভিত্তিতেই আলিপুর থানায় গ্রেফতার প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে অভিযোগকারিণীর দাবি, “চোখের জলের দাম পেলাম। আমি খুব খুশি।" স্বরূপের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর কথায়, "আবার প্রমাণিত, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”

Advertisement

টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি রহস্য-রোমাঞ্চ ছবির চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে! দীর্ঘদিন ধরেই প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযোগ সিনেমহল্লার সবার। রাজ্য রাজনীতির পালাবদল ঘটতেই এ ভাবে স্বরূপের অস্তিত্ব লুপ্ত হবে, সম্ভবত ভাবতে পারেননি তিনিও। তাই বৃহস্পতিবারের রাতে স্বরূপের গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই চমকে উঠেছে টলিউড। একই সঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন অনেকেই।

অভিযোগকারিণীই যেমন বলেছেন, “গত দু'বছর ধরে আমি কী ভাবে দিন কাটিয়েছি, একমাত্র আমিই জানি। কাজ নেই। স্বরূপদার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোয় আমায় খুনের হুমকি দেওয়া হয়।” প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে সেই সময়েও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা রূপটানশিল্পী। বিজেপি সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে বৈঠক করেছিলেন কলাকুশলীদের সঙ্গে। সে দিনও অভিযোগকারিণী তাঁর দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন বিধায়কের সামনে।

রুদ্রনীলের কাছে সে প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁর বক্তব্য, “আমি সবিস্তার কিছুই জানি না। তবে স্বরূপের অত্যাচারে নাভিশ্বাস উঠেছিল টলিউডের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেনেও প্রশ্রয় দিয়েছেন তাঁকে।” একই কথা বলতে শোনা গিয়েছে মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ড-এর অন্য এক সদস্য পাপিয়া চন্দকে। তাঁর আফসোস, “স্বরূপদা কিন্তু প্রথম দিকে আমাদের জন্য ভালই কাজ করছিলেন। পরে বদলে গেলেন তিনি।” তাঁর অভিযোগের আঙুল তাঁর গিল্ড-এর সম্পাদক বাপি মালাকারের দিকেও। অভিযোগে জানিয়েছেন, টাকা ছাড়া কোনও কাজ করতে চাইতেন না বাপিও। “কার্ড হারিয়ে ফেললে আগে টাকা চাইতেন। তার পর তার ব্যবস্থা করতেন।”

তহবিল গড়তে গিল্ড-এর সদস্যদের উপার্জনের ৭.৫ শতাংশ অর্থ জমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরূপ। সে বিষয়েও আপত্তি পাপিয়ার। তাঁর কথায়, “আমরা রাজি হইনি। আমাদের টাকায় তহবিল গড়ে যদি আমাদের সহযোগিতা করা হয়, তা হলে আমরাই তো টাকা জমিয়ে নিজেদের আপৎকালীন প্রয়োজন মেটাতে পারি। তার জন্য স্বরূপ বিশ্বাস বা ফেডারেশনকে টাকা দিতে যাব কেন?”

Advertisement
আরও পড়ুন