শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। নিজস্ব চিত্র।
বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী বুধবার বার্তা দিয়েছিলেন, টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে ফেডারেশন, গিল্ডের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে টলিউড। সবাই ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশন বা কনফেডারেশন-এর আওতাধীন হবেন। এই সর্বভারতীয় সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন পাপিয়া। শুক্রবার থেকে ন্যূনতম মূল্যে সদস্য হওয়ার ফর্ম বিলি হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এর পরে, বৃহস্পতিবার নন্দনে দাঁড়িয়ে শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এ রকম কোনও নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেননি। রাজ্যের তথ্য এবং সংস্কৃতি দফতর থেকেও এ রকম কোনও ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘যা হবে সরকারি ভাবে হবে। হয় সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, নয় তো তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের তরফে নির্দেশিকা জারি হবে। তার পরে পদক্ষেপ করা হবে।’’ একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন বাংলা বিনোদনদুনিয়ার কলাকুশলীদের। বলেন, ‘‘সকলের যাতে ভাল হয়, এমন পদক্ষেপই করা হবে।’’
এ দিকে, পাপিয়ার বুধবারের ঘোষণার পর থেকেই টলিউডে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি। আনন্দবাজার ডট কম-কে মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ড-এর সদস্য পাপিয়া চন্দ বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে চাই না। কিন্তু ফেডারেশন চাই না, এমন তো বলিনি!’’ পাপিয়ার এ-ও বলেছিলেন, ‘‘‘ডি কিউব’ তত্ত্ব মেনে অভিযুক্ত মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, বাপি মালাকার, স্বপন মজুমদার, সুজিত হাজরাকে আর ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে দেওয়া হবে না। কারণ, ওঁদের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ।’’ তাঁর এই ঘোষণা অসন্তোষের জন্ম দেয় বড় অংশের কলাকুশলীদের মধ্যে।
প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড-এর অভিযুক্ত সহ-সম্পাদক নিরুপম দে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরাই টালিগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশে শামিল হলে ডিম, ইটবৃষ্টি হয় তাঁদের উপর। কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ভরাট মাঠ এলাকা। বিক্ষুব্ধ কলাকুশলীদের দাবি, ‘‘কিছু ‘বহিরাগত’ এসে আমাদের মারধর করেছেন। ওঁরা কোনও গিল্ড-এর সদস্য নন। আক্রমণকারীরা নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন ‘পাপিয়াদির লোক’ বলে।’’ যদিও পরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ নস্যাৎ করেন পাপিয়া।
এর পরেই সমস্ত গিল্ড-এর মুখপাত্র, অভিযুক্ত হাসান এবং নিরুপম নন্দনে যান। দেখা করেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের সঙ্গে। এখানেই এসেছিলেন রুদ্রনীল। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে অন্যতম রূপসজ্জাশিল্পী সোমনাথ কুন্ডু, পাপিয়া চন্দ, কেশবিন্যাসশিল্পী হেমা মুন্সী-সহ আরও অনেকে। কলাকুশলীদের দলটি সচিবের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি দেন। পরে আনন্দবাজার ডট কম-কে নিরুপম জানান, তাঁদের আবেদন গৃহীত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদনপত্র পৌঁছে যাবে। নন্দনে দাঁড়িয়ে এ দিন তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বিরোধী পক্ষের কলাকুশলীদের। বলেন, ‘‘কাটমানি, আর্থিক তছরুপ, নারীঘটিত কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগগুলির একটিও প্রমাণিত হলে, আমি গিল্ড-এর সদস্যপদ জমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যাব।’’