Cow Milk Tablet

গরুর দুধের প্রোটিন থেকে তৈরি ট্যাবলেট দিয়ে সারবে চোখের রোগ! নতুন আবিষ্কারের দাবি এমসের

চোখের ক্লান্তি বাড়ছে কমবয়সিদের। চোখে যন্ত্রণা, জল পড়া, চোখ লাল হয়ে ওঠার সমস্যা তো আছেই, অকালে ছানিও পড়ছে অনেকের। শুষ্ক চোখের সমস্যা ঘরে ঘরে। চোখের অসুখ নিরাময়ের জন্য এমসের চিকিৎসকেরা বানিয়েছেন এমন এক ট্যাবলেট, যা তৈরি হয়েছে গরুর দুধ থেকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৮
AIIMS advances dry eye treatment with natural lactoferrin tablet from cow colostrum

চোখ বাঁচাবে গরুর দুধের ট্যাবলেট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কাজের জন্য একটানা তাকিয়ে থাকতে হয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে। বাড়িতে ফিরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে উপস্থিতির কারণে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপেই চোখ আটকে। অথবা দীর্ঘ সময় টিভির পর্দায় বুঁদ রয়েছেন কিংবা ভিডিয়ো গেম খেলায় মশগুল? এতেই জল শুকোচ্ছে চোখের। ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। তার উপর রয়েছে ক্যাটারাক্ট বা ছানি পড়ার সমস্যা, চোখের নানাবিধ সংক্রমণ। ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখ রেটিনার ক্ষতি করে, এর থেকে আসতে পারে অন্ধত্বও। কেবল চোখের ড্রপ দিয়ে এ সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করা সম্ভব নয়। সে জন্য প্রয়োজন এমন ওষুধের, যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং চোখের খেয়াল রাখবে দীর্ঘ মেয়াদে। তেমনই এক ওষুধ তৈরি করে ফেলেছেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এর চিকিৎসকেরা।

Advertisement

ওষুধটি তৈরি হয়েছে গরুর দুধ থেকে। গরুর দুধে ল্যাক্টোফেরিন নামে এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা আয়রন শোষণ করতে পারে। এই প্রোটিন চোখকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে। ল্যাক্টোফেরিন দিয়েই এমন ট্যাবলেট তৈরি করেছেন এমসের চিকিৎসকেরা, যা কেবল শুষ্ক চোখের সমস্যা নয়, রেটিনার যে কোনও রোগের নিরাময় করতে পারবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

চোখ বাঁচাবে গরুর দুধের ট্যাবলেট

গরুর কলোস্ট্রাম থেকে ল্যাক্টোফেরিন প্রোটিন আলাদা করে তা দিয়ে ট্যাবলেট তৈরি হয়েছে। কলোস্ট্রাম হল ঘন হলুদ দুধ, যা সন্তান প্রসবের পর পরই নিঃসৃত হয়। এই দুধে এক বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে, যা মুখগহ্বর, গলা থেকে শুরু করে ফুসফুস ও অন্ত্র প্রতিটি অঙ্গের রক্ষাকারী আবরণ মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষিত রাখে। মিউকাস স্তর মজবুত হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। কলোস্ট্রাম নানা ধরেন প্রোটিন সমৃদ্ধ হয়, যা শরীরের পুষ্টি জোগাতে পারে। ই-কোলাই, রোটা ভাইরাস, সিগেলার মতো মারাত্মক জীবাণুদের হাত থেকে এটি আজীবন সুরক্ষা দিতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কলোস্ট্রামে থাকা অ্যান্টিবডি যে কোনও সংক্রমণজনিত অসুখ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। তাই গরুর কলোস্ট্রামকেই ওষুধ তৈরির উপাদান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

চোখের শুষ্কতা দূর করতে ল্যাক্টোফেরিন ট্যাবলেটের থেরাপি শুরু হয়েছে এমসে। প্রায় ২০০ জন রোগীকে ২৫০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট দু’বেলা করে খাইয়ে দেখা গিয়েছে, তাঁদের চোখের যাবতীয় সমস্যার নিরাময় হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কেবল ডিজিটাল আসক্তির জন্যই যে শুষ্ক চোখের সমস্যা হয়, তা নয়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মিও এর জন্য দায়ী। পেশার তাগিদে রোদে অতিরিক্ত সময় থাকার জন্য কর্নিয়ার সমস্যা বাড়ছে। যে কোনও ধরনের কাজে বাইরে ঘোরাঘুরি করার সময়ে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি সরাসরি চোখে লেগে ক্ষতি করছে রেটিনার। শুধু রেটিনা নয়, চোখের কেন্দ্রস্থলের লেন্স ম্যাকুলারও ক্ষতি করে এই রশ্মি। যার ফলে বিশেষ ধরনের ছানি ‘নিউক্লিয়ার ক্যাটারাক্ট’ হয়। কোনও ব্যক্তি যদি বাইরে রোদে ঘোরাঘুরি করার পাশাপাশি নিয়মিত ধূমপান এবং মদ্যপান করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ক্যাটারাক্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রেও চোখ বাঁচাতে ওই ট্যাবলেটটি কাজে আসতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন