চিনে বাদাম, কাজু না কি কাঠ বাদাম রোজের খাবেন কোনটি? ছবি:সংগৃহীত।
সকালে উঠে ভেজানো ছোলা এবং চিনেবাদাম খাওয়ার চল ছিল এক সময়ে। যাঁরা নিয়মিত স্বাস্থ্যচর্চা করতেন তাঁদের জন্য বরাদ্দ থাকত এমন খাবার। তবে বাদামের গুণ নিয়ে চর্চা এই মুহূর্তে বিপুল। শুধু চিনেবাদাম নয়, বরং পেস্তা, কাঠবাদাম, কাজু, আখরোট-সহ আরও হরেক রকম বাদামই এখন স্বাস্থ্যসচেতনদের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
কিন্তু যদি পুষ্টিগুণের বিচার হয়, কাজু, কাঠবাদাম এবং চিনেবাদামের মধ্যে কোনটি খাওয়া ভাল। রোজের তালিকায় এক রকমের বাদাম রাখবেন, না কি তিন রকমের বাদাম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাবেন? কোন বাদামের কী বিশেষত্ব?
কাঠবাদাম: আমন্ড বা কাঠবাদামে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ই এবং ফাইবার। ১০০ গ্রাম কাঠবাদামে মেলে ৫৮০ কিলোক্যালোরি, প্রোাটিন থাকে ২১ গ্রাম, ফ্যাট ৫০ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২২ গ্রাম এবং ডায়েটরি ফাইবার ১২ গ্রাম। কাঠবাদাম ভিটামিন ই, জ়িঙ্ক, আয়রন, কপার এবং এটি অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের অন্যতম উৎস।
কাজুবাদাম: ১০০ গ্রাম কাজুবাদামে মেলে ৫৫৩ কিলোক্যালোরি। প্রোটিন ১৮ গ্রাম, ফ্যাট ৪৪ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩০ গ্রাম, ডায়েটরি ফাইবার ৩.৩ গ্রাম। এ ছাড়াও থাকে ম্যাগনেশিয়াম, কপার, জ়িঙ্ক, ফসফরাস।
চিনেবাদাম: ১০০ গ্রাম চিনেবাদামের ক্যালোরির মাত্রা ৫৬৭ কিলোক্যালোরি, প্রোটিন ২৫.৮ গ্রাম, ফ্যাট ৪৯.২গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৬.১ গ্রাম, ডায়েটরি ৮.৫ গ্রাম। এ ছাড়াও মেলে বেশ কিছু ভিটামিন এবং খনিজ।
পুষ্টিগুণের নিরিখে যে কেউই কম যায় না, তা এক প্রকার স্পষ্ট। কাঠবাদাম এবং কাজুবাদামের মধ্যে পুষ্টিগুণের বিচারে খুব বেশি হেরফের নেই। ক্যালোরির মাত্রা এবং প্রোটিন বেশি কাঠবাদামে। কাঠবাদামে ডায়েটরি ফাইবারের মাত্রাও কাজুবাদামের চেয়ে বেশি। তবে প্রোটিনের হিসাবে কাঠবাদাম এবং কাজুবাদমকে কিন্তু টেক্কা দিতে পারে চিনেবাদামই। কাঠবাদাম হল ভিটামিন ই-র অন্যতম উৎস। সুতরাং, পেট ভরানো, ক্যালোরির জন্য কাঠবাদাম ভাল। প্রোটিনের জন্য বেছে নেওয়া যায় চিনেবাদাম। কাজুবাদাম দিনভর প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়।
সপ্তাহে এক এক দিন ১০-২০ গ্রাম করে যে কোনও এক রকম বাদাম খেতে পারেন। আবার চাইলে তিন রকম বাদাম ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেতে পারেন। সকালে কাজু, কাঠবাদাম খেলে, বিকালে খেতে পারেন চিনেবাদাম। তবে মনে রাখা দরকার, ১০-২০ গ্রামের বেশি কিন্তু খাওয়া যাবে না।