এআর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।
সম্প্রতি ধর্মীয় বিভাজন নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন সুরকার এআর রহমান। তবে বিতর্ক যতই থাকুক, ভারতীয় সঙ্গীত জগতে তাঁর অবদান অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। তাঁর অনুরাগীদের কাছে তিনি সবার সেরা। সম্প্রতি এক টেলিভিশন শোয়ে এসেছিলেন তিনি। সেখানে সুরকারের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘গত দশ বছর ধরে আমি চিনি খাওয়া বন্ধ করেছি এবং ভাত খাই খুবই পরিমিত মাত্রায়।’’
অনেকেই আছেন যাঁরা চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন স্বাস্থ্যের কথা ভেবে। তবে মাঝেমধ্যে তাঁরাই ‘চিট মিল’ হিসাবে মিষ্টি খেয়ে ফেলেন। এআর রহমান কিন্তু সেই দিক থেকে ভীষণ কড়া। নিয়মভঙ্গ করতে তিনি মোটেই ভালবাসেন না। ‘এক আধটা দিন কি গোলাবজামুনও খান না?’ এই প্রশ্নের জবাবে রহমান সজোরে মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি মিষ্টি ছুঁয়েও দেখেন না।
চিনি ছাড়লে আর কী কী লাভ হবে শরীরের?
১) চিনি খাওয়া বন্ধ করলেই মেদ ঝরবে দ্রুত। শুধু তাই নয়, লিভারের চারপাশে জমতে থাকা ফ্যাটও ঝরতে শুরু করবে। চিকিৎসকদের মতে, চোখের চারপাশের ফোলাভাব-ও কমবে দু’সপ্তাহ চিনি থেকে দূরে থাকলে। এ ছাড়া অনেকের মুখের চারপাশে জল জমেও ফোলাভাব তৈরি হয়। চিনি ছাড়লে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বেরিয়ে যায়, তাই মুখের ফোলাভাবও কমে যায়। চিনি ছাড়লে পেটও পরিষ্কার থাকে। এ ছাড়া যাঁরা সারা বছর ব্রণর সমস্যায় ভোগেন, তাঁরাও উপকৃত হবেন চিনি ছাড়লে।
২) রাতে ভাল ঘুম হয় না অনেকের। ডায়েট থেকে চিনি বাদ দিলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে।
৩) অনেক সময়ে কাজের প্রতি অনীহা আসে। অকারণ ক্লান্ত লাগে। শরীরে শক্তির অভাব হয়। এক মাস চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেখুন শরীরে স্ফূর্তি বাড়বে। কর্মক্ষমতাও বাড়বে। প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও অল্প কয়েক দিনেই ইতিবাচক ফল পাবেন।
৪) বেশি চিনি খেলে হার্টের রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। বিপদ কমাতে চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। লিভারের রোগ ঠেকাতেও চিনি খাওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা।
৫) বাতের ব্যথা থেকে রেহাই পেতেও চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চিনি খেলেই গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা বাড়ে। তাই যাঁদের বাতের ব্যথা আছে তাঁরা এক মাস চিনি না খেলেই তফাত বুঝতে পারবেন।
চিনি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন মানেই ওজন বাড়বে না কিংবা ডায়াবিটিস হবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ এমন অনেক খাবার আছে, যেগুলিতে চিনির পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে সরাসরি চিনি না খেয়ে তেমন কিছু খাবার খেলেও মুশকিলে পড়তে পারেন। প্রাতরাশের সিরিয়াল, কর্নফ্লেক্স থেকে শুরু করে প্রোটিনবার, ফ্লেভর্ড ইয়োগার্ট থেকে প্যাকেটজাত ফলের রস— স্বাস্থ্যকর বলে বাজারে যে সব খাবার বিক্রি হচ্ছে সেগুলিতে ভরপুর চিনি থাকে। এ ছাড়াও রকমারি সস্, বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত খাবারেও চিনি থাকে। তাই ডায়েট থেকে চিনি সরিয়ে ফেলতে হলে এগুলিও বাদ দিতে হবে। যে কোনও খাবার কেনার আগে তাতে চিনি আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে ভুলবেন না। কেবল মিষ্টি আর চিনি জাতীয় খাবার ছাড়লেই হবে না, অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশে চিনি শরীরে যাচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর রাখতে হবে।