Tests of Cervical Cancer

বয়স ৪০ পেরোলে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে, টিকা না নিলে কী কী পরীক্ষা আগাম করাবেন?

বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেলেই এমন কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে রাখতে হবে, যাতে ক্যানসারের আভাস আগে থেকেই পাওয়া যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে ক্যানসার গোড়ায় ধরা পড়লে এখন নানা রকম চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১১:৪১
Cervical Cancer risks After 40, essential Screenings You Need

জরায়ুমুখের ক্যানসার ধরতে কী কী পরীক্ষা করাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

বাড়ির সকলের শরীর নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকেন মহিলারা, নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে যেন তাঁরা ততটাই উদাসীন। অথচ ঘরের কাজ, সংসারের দায়িত্ব কিংবা অফিসের চাপ, সবটাই একা হাতে সামলাতে হয় তাঁদের। শরীরের প্রতি দীর্ঘ দিনের অনিয়ম আর অযত্নের ফলে অজান্তেই জন্ম নেয় নানা ধরনের অসুখ। আর ইদানীং স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এর কারণ যেমন বাড়তে থাকা ওজন, তেমনই জীবনযাত্রায় নানা অনিয়ম। চল্লিশোর্ধ্ব মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসার সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে যাঁরা আগে এইচপিভি টিকা নেননি, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। টিকা যদি না নিতে চান বা সে বয়স না থাকে, তা হলে কিছু আগাম স্ক্রিনিং করিয়ে নেওয়া ভাল। ক্যানসার হওয়ার আগে শরীরের ভিতরে যে বদলটা হয়, তা ওই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে ধরা পড়ে।

Advertisement

প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট

জরায়ুমুখের ক্যানসার চিহ্নিত করতে প্যাপ টেস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুমুখ থেকে কোষের নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নীচে পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয়, কোষের অস্বাভাবিক বা অনিয়মিত বিভাজন হচ্ছে কি না। সাধারণত ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত প্যাপ টেস্ট করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রতি তিন বছর অন্তর এই পরীক্ষা করিয়ে নিলে নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। জরায়ুমুখের ক্যানসার একেবারে প্রাথমিক পর্বে ধরা পড়লে তার নিরাময় সম্ভব।

এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট

জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)। বয়স ৪০ পেরোলে শুধু প্যাপ স্মিয়ার না করে এইচপিভি টেস্টও করিয়ে নেওয়া জরুরি। এটি প্যাপ স্মিয়ারের মতোই। জরায়ুমুখ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হয় সেখানে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না। এই পরীক্ষার খরচ কিছুটা বেশি, সাধারণত ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে এই পরীক্ষা করা যায়।

বিআরসিএ১ এবং বিআরসিএ২ জিন টেস্টিং

স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরতে এই দুই পরীক্ষা খুবই জরুরি। ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের তেমন কোনও লক্ষণ ধরা পড়ে না। তাই যদি পরিবারে স্তন ক্যানসার, জরায়ুমুখের ক্যানসার বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হওয়ার ইতিহাস থাকে, তা হলে বয়স ত্রিশ পেরনোর সঙ্গে সঙ্গে এই দুই জিন স্ক্রিনিং করিয়ে রাখা জরুরি।

কো-টেস্টিং

৪০-৬৫ বছর বয়সের মহিলাদের জন্যই এই পরীক্ষা। এতে একই সঙ্গে প্যাপ স্মিয়ার এবং এইচপিভি টেস্ট করা হয়। যদি দুই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তবে আগামী ৫ বছর আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

হিস্টেরোস্কোপি

এই পদ্ধতিতে একটি ক্যামেরা বসানো নল (হিস্টেরোস্কোপ) যোনি এবং জরায়ুমুখের মধ্য দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়। এর ডগায় থাকা ক্যামেরা দিয়ে জরায়ুর ভিতরের অংশ সরাসরি দেখা যায়। জরায়ুর ভিতরের আস্তরণ বা এন্ডোমেট্রিয়ামের ভিতরে কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, পলিপ বা টিউমার হচ্ছে কি না, তা ধরতে এই পরীক্ষা করা হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন