জিমে ভর্তি হওয়ার আগে বা ভারী ব্যায়াম শুরুর আগে কেন হার্টের পরীক্ষা করাতেই হবে, বললেন দেবী শেট্টি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বয়স কুড়ির গণ্ডি পার হলেই করিয়ে নিতে হবে সিটি স্ক্যান। বাইশে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট জরুরি। এমনই পরামর্শ দিলেন কার্ডিয়াক সার্জন দেবী শেট্টি। আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তা বেশি হচ্ছে কমবয়সিদেরই। বাইরে থেকে দেখতে যতই সুস্থ ও চনমনে লাগুক না কেন, ভিতরে ভিতরে হৃদ্যন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ছে কি না, তা কিছু পরীক্ষা ছাড়া বোঝার উপায় থাকে না। চিকিৎসকের পরামর্শ, বয়স কুড়ির কোঠা পেরোলেই হার্টের কিছু পরীক্ষা অবশ্যই করিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা জিমে গিয়ে ভারী কসরত করেন বা ওজন তুলে ব্যায়াম করেন, তাঁদের সবচেয়ে আগে চার থেকে পাঁচটি হার্টের টেস্ট করাতেই হবে। না হলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়বে।
তারকাদের মতো চেহারা পেতে জিমে গিয়ে ওয়েট ট্রেনিং বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। পেশির ব্যায়াম করতে হলে আগে দেখে নিতে হবে শরীর সে ভাবে প্রস্তুত কি না। দেবী শেট্টি জানাচ্ছেন, শরীর যদি ভিতর থেকে দুর্বল হয় বা হৃদ্যন্ত্রের কোনও রোগ থেকে থাকে, তা হলে ভারী কসরত বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বাইরে থেকে একজনকে ফিট দেখালেও তাঁর ধমনীতে ব্লকেজ বা জন্মগত কোনও হার্টের সমস্যা রয়েছে কি না, তা সাধারণ অবস্থায় বোঝা যায় না। যখন কেউ হঠাৎ জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলেন বা এমন ব্যায়াম করেন যাতে হার্ট রেট বা হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৫০-এর উপরে চলে যায়, তখন হার্টের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এই বিপদ থেকে বাঁচতেই কিছু পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কী কী পরীক্ষা করাতে হবে?
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করা জরুরি।
হৃৎস্পন্দন ঠিক আছে কি না, তা জানতে ইলেক্ট্রোকার্ডিয়োগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষা করানো জরুরি।
হার্টের পেশি ঠিক মতো কাজ করছে কি না, তা জানতে ইকোকার্ডিয়োগ্রাম করতে হবে।
হৃদ্যন্ত্রের ধমনীতে ব্লকেজ আছে কি না বুঝতে সিটি করোনারি অ্যাঞ্জিয়োগ্রাম করানো জরুরি।
সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন টেস্ট (সিআরপি) টেস্ট করাতেই হবে। ‘সিআরপি’ এক ধরনের প্রোটিন। রক্তে এই প্রোটিন বৃদ্ধি পেলে প্রদাহ বাড়ে। সিআরপি টেস্ট করালে বোঝা যায়, শরীরে কী পরিমাণ প্রদাহ হচ্ছে। যার থেকে বোঝা সম্ভব হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে কি না।
হিমোসিস্টিন টেস্টে হার্ট অ্যাটাকের আগাম খবর পাওয়া সম্ভব। এটি এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা খাবারের বিপাকের সময়ে তৈরি হয়। কিন্তু গোলমালটা বাধে, যখন এই অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন এটি ধমনীর ভিতরে জমা হতে থাকে ও রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি করে। দিনের পর দিন যদি রক্তে হিমোসিস্টিন জমা হতে থাকে, তা হলে ধমনীতে তা ‘প্লাক’-এর মতো জমতে থাকবে ও হার্ট ব্লকেজের কারণ হয়ে উঠবে।
ডক্টর শেট্টি সতর্ক করেছেন যে, ব্যায়াম করার সময়ে যদি বুকে চাপ চাপ ব্যথা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, পিঠের ব্যথা বেশি হয়, তা হলে সাবধান হতে হবে।