ভুঁড়ি কমানোর ৫ সহজ উপায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রোগা হওয়ার অন্যতম একটি লক্ষ্য হল ভিতর থেকে সুস্থ থাকা। ছিপছিপে হলে যে শুধু দেখতে ভাল লাগে, তা নয়। ফিট থাকতেও রোগা হওয়া জরুরি। কারণ, শারীরিক নানা সমস্যা স্থূলতার হাত ধরেই আসে। তাই মেদের এই বাড়বাড়ন্ত রুখে দিতে পারলে অনেক অসুখের সঙ্গে লড়াই করা সহজ হয়। তবে সমস্যা হল যে, শরীরের অন্যান্য অংশের মেদ তাড়াতাড়ি ঝরলেও পেটের মেদ সহজে ঝরতে চায় না। তার জন্য অনেকেই বিভিন্ন উপায় মেনে চলেন। জিম, ডায়েট তো আছেই। তবে এত কিছু করেও মেদহীন পেটের স্বপ্নপূরণ হয় না অনেকের। মেদ ঝরাতে ওজ়েম্পিকের মতো ওষুধের সাহায্য নেওয়ার চলও ইদানীং বেশ বেড়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া বেশ খরচসাপেক্ষ এবং শরীরের পক্ষেও খুব একটা ভাল নয়। পুষ্টিবিদ শ্রেয়া চক্রবর্তীর মতে, খাদ্যাভাসে ৫ রকম বদল এনেই পেটের মেদ ঝরানো সম্ভব। কী কী করবেন, রইল তালিকা।
১) ভুঁড়ি কমাতে চাইলে সবার আগে ডায়েট থেকে চিনি বাদ দিতে হবে। চিনিযুক্ত পানীয়, রকমারি মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি তো বটেই রোজের খাবারে চিনি, গুড়, ব্রাউন সুগার, মধুর ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে রোজ রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার যেমন, সাদা ভাত, ময়দা, চাউমিন, পাস্তা, পাউরুটির পরিমাণ কমাতে হবে।
২) রোজের খাবারে প্রোটিনকে প্রাধান্য দিতে হবে। ভুঁড়ি কমাতে হলে খাবারের প্লেটটা সাজাতে হবে বুদ্ধি করে। প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার আর রাতের খাবারে প্রোটিনের ভাগ বেশি রাখতে হবে। প্রোটিন শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না। পেট অনেক ক্ষণ ভরাট রাখে, ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
৩) সকালে কিছু খেলেন না, দুপুর হতেই এক থালা ভাত খেয়ে নিলেন। এমনটা করলে কিন্তু ভুঁড়ি হবেই। একেবারে অনেকটা খাবার না খেয়ে বারে বারে অল্প অল্প করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৪) রাতের খাবার খেতে খুব বেশি দেরি করবেন না। খাবার খেয়েই শুয়ে পড়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই, এই অভ্যাসের কারণেই পেটের আশপাশে মেদ জমা হয়। খাওয়াদাওয়ার পর ২-৩ ঘণ্টা হাতে রাখতে হবে। তাই অফিস থেকে বাড়ি ফিরেই আগে রাতের খাবারটা সেরে ফেলুন।
৫) ভুঁড়ি কমাতে হলে ডায়েটে দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার রাখতে হবে। প্রোবায়োটিক শরীরে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। ভাল ব্যাক্টেরিয়া খাদ্য বিপাকে সাহায্য করে। হজম ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতি দিন যে সব খাবার খাওয়া হয়, তার মাধ্যমে অনেক রাসায়নিক ঢোকে শরীরে। বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে আমাদের অন্ত্রে খারাপ ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাও বাড়ে। এই খারাপ ব্যাক্টেরিয়াগুলি নষ্ট করার জন্যই প্রয়োজন প্রোবায়োটিক।