এক ধাক্কায় ওজন হ্রাস বরুণের! ছবি: সংগৃহীত।
‘কোহরা ২’ ওয়েব সিরিজ়ের পর এক ধাক্কায় ওজন কমিয়ে ফেলেছেন বরুণ সোবতী। সম্প্রতি তাঁর বাড়ির অন্দরসজ্জা দেখতে সেখানে পৌঁছেছিলেন প্রযোজক-পরিচালক ফরাহ খান। তাঁর ইউটিউব ভ্লগের এই পর্বে বরুণের কাছে কথাপ্রসঙ্গে ফরাহ বরুণের থেকে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর ওজন এতটা হ্রাস পেল কী করে?
ফরাহ এবং অনুরাগীমহল নিশ্চয়ই উত্তরে আশা করেছিলেন, কোনও ডায়েট ও শারীরচর্চার বিশেষ পরিকল্পনা। কিন্তু তাঁদের চমকে দিয়ে বরুণ জানান, তিনি কাজের সময়ে দৃশ্য নিয়ে এতটাই মশগুল থাকেন, যে খেতে ভুলে যান। ফলে ১৪-১৫ ঘণ্টা কোনও কিছু না খেয়েই থাকেন। এর ফলেই এক ধাক্কায় ওজন কমে গিয়েছে।
বর্তমানে উপবাস বা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ নিয়ে আলোচনা বাড়লেও, কাজের চাপে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? মনে রাখতে হবে, পরিকল্পিত উপবাস এবং কাজের চাপে নাওয়াখাওয়া ভুলে যাওয়া এক জিনিস নয়। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, নির্দিষ্ট সময় মেনে উপবাস করার কিছু উপকারিতা থাকতে পারে। তবে যখন কেউ ব্যস্ততার কারণে খাওয়া বাদ দেন, তখন শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং শক্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বরুণের এই অভ্যাস কিন্তু অধিকাংশের জন্যই স্বাস্থ্যকর নয়।
শরীর দীর্ঘ ক্ষণ খাবার না পেলে প্রথমে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। কিছু সময় পরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। এর ফলে ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগে ঘাটতি এবং দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কাজের মধ্যে মানসিক চাপ, কায়িক শ্রম বা দীর্ঘক্ষণ ব্যাপী একাগ্রতা প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে লম্বা সময় খালি পেটে থাকলে মস্তিষ্ক গ্লুকোজ় পায় না, গায়ে বল পাওয়া যায় না।
অনেক ক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে অনেকেরই অত্যধিক খিদে পায়। তখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা দেয়। অনেকেই দ্রুত পেট ভরাতে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত, বেশি তেল বা বেশি চিনিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন। ফলে দিনের শেষে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। কারও কারও উল্টে ওজন বেড়েও যেতে পারে এর ফলে।
সবার শরীর এক রকম নয়। কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়ার অভ্যাসে স্বচ্ছন্দ। সে ক্ষেত্রে সমস্যা না-ও হতে পারে। কিন্তু বেশি দিন ধরে এমনটা চললে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাতে শরীর ধসে পড়তে পারে দ্রুত। তাই উপবাস করতে হলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে, বাকি সময়ের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তাই খালি পেট আপনার ক্ষতি করবে না।