হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে পারে বিশেষ এক খাবার? কী সেটি? ছবি:সংগৃহীত।
ভুল খাবার যেমন হার্ট অ্যাটাক, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তেমনই সঠিক খাবার হার্ট থেকে কিডনি, হাড়, লিভারের বর্মও হয়ে উঠতে পারে। হার্ট ভাল রাখবে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে, হাড়ের স্বাস্থ্যও ভাল রাখবে— এমন কোনও খাবার খুঁজছেন কি? তা হলে বেছে নিতে পারেন মাশরুম।
এটি হল এক ধরনের ছত্রাক যা স্যাঁতসেতে মাটিতে জন্মায়। প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজে ভরপুর মাশরুম স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী। মাশরুম খাওয়ার উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন আমেরিকার পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপকেরা।
লন্ডনের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, নিয়ম করে মাশরুম খেলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি একটি সাধারণ ফ্যাট যা মানবদেহে থাকে। ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি থাকলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
বিভিন্ন রকম বি ভিটামিন, ভিটামিন ডি, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম, কপার, ফসফরাসের মতো খনিজের ভাল উৎস মাশরুম। ১০০ গ্রাম মাশরুমে মোটামুটি ৩ গ্রাম প্রোটিন মেলে (প্রজাতির উপর নির্ভর করে)। আরগোথায়োনিন, গ্লুটাথিয়ন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে এতে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে শরীরের যে ক্ষতি হয়, তা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে মাশরুমের এই দু’টি উপাদান।
গবেষণা বলছে, নিয়ম করে খাদ্যাভ্যাসে মাশরুম যোগ করা হলে কার্ডিয়োমেটাবলিক ডিজ়িজ় ( হার্ট এবং বিপাক সম্বন্ধীয়) এর ঝুঁকি কমতে পারে। কারণ, স্থূলত্ব, উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স, বাড়তি কোলেস্টেরল হার্ট এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া, রক্তচাপ বশে রাখতেও তা সহায়ক।
ফরিদাবাদের পুষ্টিবিদ কমল মালিক এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, মাশরুম হার্টের জন্য অত্যন্ত ভাল একটি খাবার। তা ছাড়া নানা রকম পুষ্টিগুণও রয়েছে এতে। সবচেয়ে বড় কথা হল, মাশরুমে ক্যালোরির মাত্রা কম, ওজন বৃদ্ধির ভয় নেই। লিপিডের মাত্রা ঠিক রাখা থেকে রক্তচাপ বশে রাখা, সবটাই করার ক্ষমতা রাখে মাশরুমে থাকা উপাদান।
আবার এই মাশরুমই হতে পারে ভিটামিন ডি-এর ভাল উৎস। হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে ভিটামিনটি। ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে ২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র বলছে, মাশরুম সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে বিশেষত অতিবেগনি রশ্মির জন্যই এতে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। ১০০ গ্রাম মাশরুমে ৭ আইইউ ভিটামিন ডি মেলে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে চড়া বা হালকা সূর্যালোকে সেটি রাখার ফলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। ৭ আইইউ বেড়ে হয়েছে ৭০০ আইইউ। ১ ঘণ্টা পর ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ হয়েছে ১৩০০ আইইউ।
ফলে একটি খাবার হার্ট ভাল রাখতে পারে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় আবার ভিটামিন ডি-এর জোগানও দেয়। তা ছাড়া, নিরামিষাশীরাও মাশরুম খেতে পারেন। বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার প্রজাতির মাশরুম থাকলেও খাওয়া যায় তার মধ্যে মাত্রই কয়েকটি। সেগুলি বেশ উপাদেয়। বাটন মাশরুম, অয়েস্টার, মিল্কি মাশরুম, সিটাকে মাশরুম-সহ বেশ কিছু নিয়ম করে খাদ্যতালিকায় জোড়া যায়। তবে যে কোনও খাবার উপকারী হলেও, পরিমিত খাওয়াই ভাল।