Karah Wahi Vegetarian Diet

আমিষ ছাড়তেই ত্বকের রোগ উধাও! কর্ণের দাবি আদৌ সত্যি? খাবারের সঙ্গে স্বাস্থ্য কী ভাবে সম্পর্কিত

আমিষ খাওয়া ছেড়ে নাকি এক দিকে যেমন মানসিক শান্তি মিলেছে, অন্য দিকে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা কমে গিয়েছে কর্ণ ওয়াহির। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব? নিরামিষ খাবারে সীমাবদ্ধ থাকার ফলে কি ত্বকের অ্যালার্জির সমস্যা কমতে পারে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৮:৪৫
কর্ণ ওয়াহির ত্বকের অ্যালার্জি কি আমিষের সঙ্গে সম্পর্কিত?

কর্ণ ওয়াহির ত্বকের অ্যালার্জি কি আমিষের সঙ্গে সম্পর্কিত? ছবি: সংগৃহীত।

জীবনে নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছেন মুম্বইয়ের টেলিভিশনের জনপ্রিয় নায়ক কর্ণ ওয়াহি। আধ্যাত্মিকতার দিকে ঝুঁকেছেন তিনি। পাশাপাশি গত ৩-৫ মাস ধরে আমিষ খাবার থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে এনেছেন তিনি। এর ফলে নাকি এক দিকে যেমন মানসিক শান্তি মিলেছে, অন্য দিকে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা কমে গিয়েছে তাঁর। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব? নিরামিষ খাবারে সীমাবদ্ধ থাকার ফলে কি ত্বকের অ্যালার্জির সমস্যা কমতে পারে? বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।

Advertisement

কর্ণের কথায় জানা যায়, গত ৪-৫ বছর ধরে তিনি ত্বকের অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছেন। অভিনেতার কথায়, ‘‘কোমরের নীচের অংশ থেকে ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগতাম। পাশাপাশি, হাত ও পা-ও খুব শুষ্ক হয়ে যেত। কিন্তু গত ৩-৫ মাস, আমিষ খাবার ছাড়ার পর সেই সমস্যা একেবারে দূর হয়ে গিয়েছে। আমার ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত হয়েছে।’’ অ্যালার্জির সমস্যার কারণ ও সমাধান খুঁজতে গিয়ে তিনি খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দেন। এর পর তিনি এক ধরনের খাবার খাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। কর্ণ নাকি জীবনে কখনও ভাবতে পারেননি যে, তিনি আমিষ খাবার ছাড়তে পারবেন! আর এখন? খেতেই ইচ্ছা করে না খুব একটা।

নিরামিষ খাবার।

নিরামিষ খাবার। ছবি: সংগৃহীত

এর নেপথ্যে কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে কি? পুষ্টিবিদ বলছেন, ‘‘এই দাবিটা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়। আমিষ এবং নিরামিষ খাবারের সঙ্গে ত্বকের সমস্যার কোনও যোগ নেই। ওজন হ্রাস বা ত্বকের অ্যালার্জি কমানোর পন্থা মোটেও আমিষ ত্যাগ করা নয়। অনেকেই ভাবেন, মাছ-মাংস না খেলেই রোগা হওয়া যায়। তা হলে তো প্রত্যেক নিরামিষাশী রোগা হতেন, প্রত্যেক আমিষাশী মোটা হতেন। এমনটা হয় না। ত্বকের স্বাস্থ্যের বিষয়টাও একই ভাবে অযৌক্তিক।’’ তা হলে কর্ণের ক্ষেত্রে এই টোটকা কাজ করল কেন? অনন্যা জানাচ্ছেন, কার কিসে অ্যালার্জি, সেটা দেখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিতে হবে, তবেই জানা যাবে, কার কোন খাবারে সমস্যা রয়েছে। হয়তো কর্ণের কিছু আমিষ খাবারে অ্যালার্জি ছিল, তাই তাঁর জন্য আমিষ ছাড়াটা কার্যকরী হয়েছে। তবে তার মানে এই নয়, পৃথিবীর সকলের আমিষে অ্যালার্জি থাকবে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ, সকলের জন্য সব রকম পন্থা কার্যকরী নয়, এই কথাটি সর্বাগ্রে মাথায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, পেশাদারের পরামর্শ ছাড়া নিজের মতো খাদ্যাভ্যাস বদলে ফেলা উচিত নয়।

আমিষ খাবার।

আমিষ খাবার। ছবি: সংগৃহীত

খাবারের ক্ষেত্রে কী ভাবে অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি হয়?

খাবারে অ্যালার্জি আমিষ-নিরামিষের উপর নির্ভর করে না। খাবারটি প্রাণীজ না কি উদ্ভিজ্জ, তার সঙ্গে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। অ্যালার্জি হয় নির্জিষ্ট কিছু প্রোটিনের কারণে, যার নাম এপিটোপ। বিভিন্ন ধরনের আমিষ খাবার থেকে অ্যালার্জি হতে পারে, যেমন মাছ, শেলফিস (চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি), ডিম ইত্যাদি। এই ধরনের খাবারে অ্যালার্জি হচ্ছে মানে সমস্ত আমিষ ছেড়ে দেওয়া অযৌক্তিক। যত ক্ষণ না পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রোটিনটি ত্যাগ করছেন, তত ক্ষণ সুস্থ হবেন না।

তা ছাড়া শুনে অবাক হবেন, নানাবিধ উদ্ভিজ্জ প্রোটিনেও কারও কারও অ্যালার্জি থাকতে পারে। পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, সেগুলির উৎস হল, পোলেন, গ্লুটেন, সয়াবিন, চিনেবাদাম, অন্য বিভিন্নবাদাম (কাঠবাদাম, আখরোট, কাজু, পেস্তা ইত্যাদি), তিল ইত্যাদি। এগুলি খুবই পরিচিত এবং সাধারণ অ্যালার্জেনের আওতায় পড়ে।

Advertisement
আরও পড়ুন