মাখানা কি বাদামের চেয়ে ভাল? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়েট করলে সবার আগে যেটা খেয়াল করতে হয়, তা হল— ‘কিছুমিছু’ খাওয়ার ইচ্ছেটাকে সামলাবেন কোন উপায়ে। বিকেল হলেই যে চপ-তেলেভাজা কিংবা রোল-চাউমিন-ফুচকার দিকে মন টানে, একটু সুস্বাদু, নোনতা কিছু খেতে ইচ্ছে করে, তাতে লাগাম পরাবেন কী ভাবে। যাঁরা ডায়েট ছকে দেন, তাঁরা অনেকেই বিকেলের ওই সময়টায় মাখানা অর্থাৎ পদ্মবীজের খই খেতে বলেন। আবার কেউ কেউ নিদান দেন মুড়ি আর শুকনো খোলায় ভাজা বাদাম খাওয়ার। কিন্তু ওজন কমানো যদি লক্ষ্য হয় এবং ক্যালোরি মাপার পাশাপাশি যদি পুষ্টিতেও গুরুত্ব দিতে হয়, তবে কোনটি খাবেন? বাদাম, না কি মাখানা?
উত্তর এককথায় দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সহজে বোঝাতে হলে বলা যেতে পারে— ‘ডায়েট করার সময় এমন খাবারের প্রয়োজন, যা পেট ভরাবে আবার ক্যালোরির বোঝাও বাড়াবে না। সেই নিরিখে দেখলে চিনেবাদামের থেকে এগিয়ে রয়েছে মাখানা।
মাখানা কেন ভাল?
১। এ খাবারে ক্যালোরি অত্যন্ত কম। ১ কাপ বা প্রায় ৩০ গ্রাম অল্প ঘি বা অলিভ অয়েলে ভাজা মাখানায় ক্যালোরি থাকে বড় জোর ১০০-১১০ কিলোক্যালোরি। অন্য দিকে, সমপরিমাণ চিনেবাদামে ক্যালোরির মাত্রা থাকে ১৭০ কিলোক্যালোরি বা তার বেশি।
২। মাখানায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে থাকা ফাইবার হজমের প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। তাই এটি খেলে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরে থাকে। ঘন ঘন খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
৩। মাখানায় প্রাকৃতিক ভাবে সোডিয়ামের মাত্রা কম। পটাশিয়াম বেশি থাকে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ভাল। তা ছাড়া শরীরে জল জমে ওজন বৃদ্ধিও হতে দেয় না।
চিনেবাদাম কি খারাপ?
একেবারেই নয়। চিনেবাদামে রয়েছে প্রোটিন, যা পেশিশক্তি বৃদ্ধির জন্য জরুরি। রয়েছে ভাল ফ্যাট, যা রক্তে খারাপ ‘কোলেস্টেরল’ বা এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বাদাম ভিটামিন ই-রও ভাল উৎস, যা ত্বক এবং চুলের জেল্লার জন্য জরুরি। এর একমাত্র সমস্যা হল ক্যালোরি। তাই চিনেবাদাম খেতে চাইলে তা খেতে হবে কম পরিমাণে। ‘মুখ চালানোর’ খাবার হিসাবে অজান্তে বেশি খেয়ে ফেললে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
তা হলে কী করবেন?
দু’টি খাবারই ডায়েটের জন্য উপকারী। আর পরিমাণ মেপে খেলে দু’টিই খাওয়া যায়। তবে মুখ চালানোর জন্য যদি বেশি খাবার লাগে, তবে মাখানা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি পরিমাণের ব্যাপারে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকে, তবে অল্প পরিমাণে বাদাম খেতে পারেন।