আম, খরমুজের মধ্যে গরমের উপযোগী কোনটি? ছবি:সংগৃহীত।
গরমের দিনের ফল মানেই তা রসালো। আসলে প্রকৃতি মরসুম অনুযায়ী ফল সৃষ্টি করেছে, যাতে ফল খেলে জলের অভাব দূর হয়। আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, তরমুজ, খরমুজ গরম থেকে বর্ষার মধ্যে রকমারি ফল পাওয়া যায়। তার কোনও বেশ মিষ্টি স্বাদু, কোনওটি হয়তো ততটাও মিষ্টি নয়, কিন্তু উপকারী।
তবে গরমের ফল নিয়ে আম এবং খরমুজ সম্মুখ সমরে নামে, জিতবে কে?
আম
উপকারি বটেই, তবে আমের কদর তার স্বাদের জন্য। প্রজাতিতে যেমন বিভিন্নতা, স্বাদেও রয়েছে বৈচিত্র। হিমসাগর, আম্রপালি, গোলাপখাস, পেয়ারাফুলি— কত রকম যে তার ধরন-ধারণ। স্বল্পমাত্রায় প্রোটিন, বেশ কিছুটা ফ্যাট, প্রচুর শর্করা, ভিটামিন সি, ফোলেট, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন এ, ই, কে, পটাশিয়াম-সহ অনেক ধরনের ভিটামিন-খনিজই মেলে এতে। রসালো ফল হওয়ায় কিছুটা হলেও মেলে জলের অভাব। তা ছাড়া আম অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে পূর্ণ, শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ত্বক ভাল রাখতেও সাহায্য করে ফলটি।
খরমুজ
খরমুজের অনেকটাই জল। দিল্লি নিবাসী পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা মনে করাচ্ছেন, শরীর ঠান্ডা রাখা বা জলের চাহিদাপূরণের লক্ষ্য হলে খরমুজ অত্যন্ত ভাল। স্বাদে এই ফল আমকে টেক্কা দিতে পারে না ঠিকই, কিন্তু খরমুজে শর্করার মাত্রা কম, ক্যালোরিও কম। ফলে যাঁরা ডায়াবেটিক অথবা যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য খরমুজ ভাল। ভিটামিন এবং খনিজও যথেষ্ট মেলে এতে। ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট পাওয়া যায় খরমুজে। এই ফল শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ফাইবারের জোগান দেয়। রক্তচাপ বশে রাখতেও সহায়ক এটি।
পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ডায়াবিটিস থাকলে আম খেতে হবে একটু হিসেব কষে। তবে খরমুজ খাওয়ার ক্ষেত্রে ততটাও বিধিনিষেধ থাকবে না। মুরসুমি যে কোনও ফলই উপকারী। কিন্তু ভাল বলেই তা অতিরিক্ত খাওয়া যায় না। পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।