Typhoid Fever in Children

ঋতুবদলে বাড়ছে টাইফয়েডের প্রকোপ, আক্রান্ত ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সিরা, কী কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি?

টাইফয়েড বাড়ছে। লক্ষণে সাধারণ জ্বরের সঙ্গে মিল থাকলেও, কিছু উপসর্গ আলাদা। সেগুলি চিনে খুব তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৪:৪৭
New study finds High Incidence of Typhoid Fever in children

টাইফয়েড থেকে বাঁচতে কী কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ঋতুবদলের সময়ে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা নানা রকম ভাইরাল জ্বরের প্রকোপ বাড়ে ঠিকই, তবে টাইফয়েড তার মধ্যে একটু আলাদা। ভাইরাল জ্বর নিয়ে যতটা আলোচনা হয় মরসুম বদলের সময়ে, টাইফয়েড নিয়ে ততটা হয় না। অথচ টাইফয়েডে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)জানিয়েছে, ভারতীয় শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। এমন কথা লেখা হয়েছে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনেও। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, ২০২৩ সালে দেশে ৪৭ লাখের বেশি টাইফয়েড আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় সাড়ে সাত হাজারের। সে সময়ে রোগটি নিয়ে হইচই হলেও, এখন আবারও তা আড়ালে চলে গিয়েছে। অথচ সাধারণ জ্বরের চেয়ে টাইফয়েড অনেকটাই আলাদা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এর প্রভাব ভয়াবহও হতে পারে।

Advertisement

টাইফয়েডের কিছু লক্ষণ যা সাধারণ জ্বরের চেয়ে আলাদা

টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেল্লা টাইফি ব্যাক্টেরিয়া। এই ব্যাক্টেরিয়ার রূপ বদল ঘটেছে বলেই দাবি গবেষকদের। জিনগত বদল ঘটিয়ে এটি এখন আরও বেশি সংক্রামক। আইসিএমআর জানাচ্ছে, দেশে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সিরাই টাইফয়েডে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। তার চেয়েও ভয়ের ব্যাপার হল, টাইফয়েডের চেনা কিছু ওষুধ আর রোগটি সারাতে তেমন কাজও করছে না। অর্থাৎ, জীবাণু ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

টাইফয়েড হলে ঘন ঘন জ্বর আসবে। তাপমাত্র ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রিও উঠে যেতে পারে। সেই সঙ্গেই তীব্র মাথাব্যথা ও গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা শুরু হবে। সাধারণ জ্বর বা অন্য কোনও ভাইরাসজনিত অসুখেও এমন উপসর্গ থাকে। তাই টাইফয়েড হয়েছে কি না তা আলাদা করে বুঝতে খেয়াল রাখতে হবে ছোটদের সারা শরীরে র‌্যাশ বেরোচ্ছে কি না সে দিকে। অনেক সময়ে পেটে ও বুকের কাছে লালচে-গোলাপি র‌্যাশ বার হয়। পাশাপাশি জিভের উপর পুরু সাদাটে আস্তরণ পড়ে যায়।

টাইফয়েডের আরও কিছু লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন তীব্র ডায়েরিয়া। পেটের এমন গোলমাল যা সারতে চাইবে না। পেট ফুলে উঠবে ও যন্ত্রণা শুরু হবে। সেই সঙ্গেই পেশির খিঁচুনি হতে পারে। যদি দেখা যায়, জ্বর ও পেটখারাপ সাত দিনেও কমেনি এবং জন্ডিসের মতো লক্ষণও দেখা দিয়েছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

কী কী স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি?

ব্লাড কালচার করে নিতে হবে আগে। টাইফয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষাটি করে নিতে বলেন আগে। এতে রোগের জীবাণু ধরা পড়ে তাড়াতাড়ি।

এর পরে ওয়াইডাল টেস্ট করতে হবে। রক্তে জীবাণুকে রোধ করার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়। অ্যান্টিবডি খুঁজে পাওয়া গেলে বুঝতে হবে শরীরে টাইফয়েডের জীবাণু রয়েছে। তবে সংক্রমণের প্রথম সপ্তাহেই ওয়াইডাল টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ না-ও আসতে পারে। সাধারণত দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে পরীক্ষাটি করালে, ফলাফল ভাল ভাবে বোঝা যাবে।

কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করে নেওয়াও ভাল। এতে বোঝা যাবে রক্তে শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকার পরিমাণ কমেছে কি না।

টাইফিডট নামে আরও এক রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষা আছে যা খুব তাড়াতাড়ি টাইফয়েডের ব্যাক্টেরিয়া চিনতে পারে। এই পরীক্ষাটি করালেও সাধারণ জ্বর না টাইফয়েড, তা দ্রুত বোঝা যাবে।

টাইফয়েড থেকে বাঁচতে রাস্তার খাবার, কাটা ফল, কাঁচা স্যালাড কম খেতে হবে। শিশুদের রাস্তায় বিক্রি হওয়া খাবার, শরবত বা ঠান্ডা পানীয় খাওয়াবেন না। দূষিত জল থেকেও রোগ ছড়ায়। তাই ঋতুবদলের সময়টাতে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোই জরুরি। খেয়াল রাখতে হবে, জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াবেন না শিশুকে। রোগটি কী সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই ওষুধ খেতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন