Non Alcoholic Fatty Liver Disease

মদ্যপান না করেও ফ্যাটি লিভার? ভারতে ৪০ শতাংশ মানুষই ভুগছেন এই রোগে, সতর্ক করল আইসিএমআর

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। কী ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হন মানুষ? কী কী সমস্যা দেখা যায়? নিরাময়ের রাস্তা কী?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৩
New Study says, 40 Percent Indian have non-alcoholic fatty liver

মদ্যপান না করেও লিভারে মেদ জমছে কী ভাবে? ছবি: ফ্রিপিক।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে বেশ কিছু বদল এসেছে, যার হাত ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন অসুখও। এমনই একটি অসুখ হল নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। মদ্যপান না করেও মেদ জমতে পারে লিভারে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর সমীক্ষা বলছে, দেশের অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের রোগে ভুগছেন। ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ কার্ডিয়োভাস্কুলার মেডিসিন জার্নালেও বলা হয়েছে, লিভারের এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

Advertisement

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে শরীর থেকে টক্সিনও বেরোতে পারে না। তখন সেই টক্সিন জমা হতে হতে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বাড়তে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইডও। মেদ জমতে শুরু করে শরীরে এবং তা লিভারেও জমা হতে থাকে। লিভারে জমা মেদের পরিমাণ যদি অনেক বেড়ে যায়, তা হলে তা থেকে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। লিভারে ঘা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, যাকে লিভার সিরোসিস বলে। এই সিরোসিস থেকেই পরবর্তী সময়ে লিভার ক্যানসার হতে পারে।

সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ভারতীয়দের খাবারে তেল-মশলা-স্নেহপদার্থের প্রয়োগ অনেক বেশি। সেই তুলনায় হজমশক্তি কম। তা ছাড়া শরীরচর্চার অভ্যাসও নেই অনেকের। ফলে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে অসংযমই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তবে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল-এর কারণেও নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের হতে পারে। ওজন যদি খুব বেশি হয়, তা হলেও মেদ জমতে পারে লিভারে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।

নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সব থেকে বড় লক্ষণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি কোমরের মাপ বা ভুঁড়ি। মেদ বাড়লে লিভারেও তা জমা হতে থাকে। ফলে লিভারের কাজ করার ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রথম অবস্থায় খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, খাবারে অরুচি হয়, বমি ভাব থাকে, দুর্বলতা বাড়তে থাকে। এই সব উপসর্গের পাশাপাশি ক্রনিক মাথা ব্যথা, অম্বল-বুক জ্বালা, হজম না হওয়া, মন খারাপ, আচমকা কাঁপুনি-সহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে থাকবে। বিশেষ করে নখ বা চোখ হলদেটে হয়ে গেলে বা বার বার জন্ডিসের উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এ ছাড়া যাঁরা হরমোন থেরাপি করান, ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খান বা ব্যথানাশক ওষুধ খান, তাঁদেরও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন