HPV Test Kit

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ, বিপদ ঘটার আগে রোগ চিহ্নিত করবে দেশের প্রথম টেস্ট কিট

জরায়ুমুখের ক্যানসার ঠেকাতে বড় সাফল্যের পথে ভারত। কয়েক মিনিটেই বিপজ্জনক এইচপিভি স্ট্রেন শনাক্ত করতে দেশের নিজস্ব নতুন টেস্ট কিট এল বাজারে। এই টেস্ট-কিটে কম সময়ে ও কম খরচে ক্যানসার চিহ্নিত করা যাবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:০১
Researchers have validated India\\\\\\\'s first homegrown HPV test

জরায়ুমুখের ক্যানসার ধরা পড়বে আগেই, দেশের প্রথম টেস্ট কিট কী ভাবে কাজ করবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জরায়ুমুখের ক্যানসার ধরা পড়বে অনেক আগেই। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) শরীরে পাকাপাকি ভাবে বাসা বাঁধার আগেই তাকে চিহ্নিত করতে নতুন এক টেস্ট কিট তৈরি করেছে ভারত। এ দেশের গবেষকদের তৈরি ‘এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট’ ভাইরাসের বিপজ্জনক স্ট্রেনগুলিকে শনাক্ত করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement

জরায়ুমুখের ক্যানসার নিয়ে দেশে এই ধরনের টেস্ট কিট প্রথম বারই তৈরি হয়েছে। সেটি কতটা কার্যকরী হতে পারে, তার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করেছে দিল্লির এমস, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ক্যানসার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ। সেই ফলাফল দেখে এই পরীক্ষা পদ্ধতিটিকে কার্যকরী বলে অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং ফ্রান্সের ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি)।

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের অসংখ্য প্রজাতি আছে। তার মধ্যে কয়েকটি জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী। সেগুলিকে চিহ্নিত করবে ওই টেস্ট কিট। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রুনাট এইচপিভি-এইচআর প্লাস টেস্ট’। গবেষকেরা দাবি করেছেন, এইচপিভি-র যে স্ট্রেনগুলি ক্যানসারের জন্য দায়ী সেগুলিকেই সবচেয়ে আগে খুঁজে বার করা যাবে এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে। তাতে সময় লাগবে কয়েক মিনিট। এত দিন এই পরীক্ষা করা হয় ‘প্যাপ স্মিয়ার’ টেস্টের মাধ্যমে। যাতে সময় বেশি লাগত এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কাও থাকত। কিন্তু ট্রুনাট টেস্টে তা হবে না বলেই দাবি করা হয়েছে। এইচপিভি টেস্ট-কিট আসলে ‘রিয়্যাল-টাইম আরটি-পিসিআর’ পদ্ধতি। এই টেস্ট-কিটে এক ধরনের চিপ বসানো রয়েছে, যাতে রোগীর শরীর থেকে নেওয়া নমুনা ফেললে তার জিনগত বিন্যাস খুব দ্রুত বোঝা যাবে। যদি ভাইরাস থাকে, তা হলে সেটি কোন প্রজাতির এবং ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠবে কি না, তা জিনের বিন্যাস দেখেই ধরতে পারবেন চিকিৎসকেরা। রোগ দেখা দেওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া যাবে। আবার যদি ক্যানসার কোষের বিভাজন শুরু হয়ে যায়, তা হলে দ্রুত তা শনাক্ত করে চিকিৎসাও শুরু করা যাবে।

কারা এই টেস্টটি করলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ইচপিভি ডিএনএ স্ক্রিনিং করা জরুরি। এই বয়সের মহিলারা যদি ট্রুনাট টেস্টটি করিয়ে রাখেন, তা হলে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

প্যাপ স্মিয়ারের চেয়েও এই টেস্টটি ভাইরাসের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে বলে দাবি। তাই পরিবারে জরায়ুমুখের বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে, দেরি না করে টেস্টটি করিয়ে রাখা ভাল।

বিশ্ববাজারে বিদেশি এইচপিভি ডিএনএ টেস্টগুলির খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই টেস্ট কিটটি কম খরচেই পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্যও সেটি পাওয়া যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন