Hanuman Danasana

শিল্পা শেট্টির মতো নির্মেদ কোমর পেতে করতে হবে হনুমান দণ্ডাসন, পদ্ধতি শেখালেন অভিনেত্রী নিজেই

ঘণ্টা দুয়েক টানা যদি চেয়ারে বসে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন কেউ, তা হলে যেমন চোখের বারোটা বাজবে, তেমনই নিতম্বের পেশির অসাড়তাও বাড়বে। ঊরু, পা, নিতম্বের মেদ কমানো ও পেশির জোর বাড়িয়ে তুলতে কী ধরনের ব্যায়াম করা ভাল, তা শিখিয়েছেন শিল্পা শেট্টি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৬:১৯
Shilpa Shetty’s Hanuman Danasana Yoga pose helpful for Full-Body Strength and Mobility

নির্মেদ চেহারা ধরে রাখতে নিয়মিত হনুমান দণ্ডাসন অভ্যাস করেন শিল্পা শেট্টি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ওজন কমানোর জন্য কী ধরনের ব্যায়াম করা ভাল, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই মতামত দেন শিল্পা শেট্টি। নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে নানা ধরনের স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও যোগাসন করেও দেখান তিনি। পেট-কোমরের মেদ কমাতে কেমন ব্যায়াম করতে হবে বা পায়ের গড়ন সুন্দর করতে যোগাসনের কোন পদ্ধতি ভাল, তা নিয়ে শিল্পার একাধিক ভিডিয়ো আছে। দুই সন্তানের মা শিল্পার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। তবে এখনও তাঁর নির্মেদ শরীর, ত্বকের দীপ্তি, ফিটনেস অনুরাগীমহলে আলোচিত। শিল্পা জানিয়েছেন, তাঁর মতো ছিপছিপে কোমর পেতে হলে ভারী ওজন তুলে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে নিয়মিত হনুমান দণ্ডাসন অভ্যাস করলেই সুফল পাওয়া যাবে।

Advertisement

হনুমান দণ্ডাসনের পদ্ধতি কী?

পেট, কোমর, ঊরু ও কাফ মাসলের একসঙ্গে ব্যায়াম হয় হনুমান দণ্ডাসন অভ্যাসে। যোগাসনের এমন এক পদ্ধতি যাতে সারা শরীরের স্ট্রেচিং হয় ও রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এতে ওজন না তুলেও ওয়েট ট্রেনিং বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করার মতো উপকার পাওয়া যায়। হনুমান দণ্ডাসন অভ্যাস করলে একসঙ্গে অনেক আসন করা হয়ে যায় ধাপে ধাপে।

হনুমান দণ্ডাসনে পদ্ধতি।

হনুমান দণ্ডাসনে পদ্ধতি।

১) প্রথমে প্ল্যাঙ্কের মতো ভঙ্গি করতে হবে। মাটিতে হাত ও পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে শরীর সোজা ও টানটান রাখতে হবে।

২) এ বার দুই কনুই ভাঁজ করে বুকের কাছাকাছি রেখে শরীর সামান্য ঝুঁকিয়ে নীচের দিকে আনুন।

৩) এর পর ভুজঙ্গাসনের মতো হাতে ভর দিয়ে মাথা ও বুক উপরে তুলতে হবে। কোমর ও নিতম্ব মেঝের কাছাকাছি থাকবে।

৪) পরের ধাপে মাথা ও বুক নামিয়ে কোমর ও নিতম্ব উপরে তুলে অধোমুখ শবাসনের ভঙ্গি করতে হবে। এতে হাতের তালু মাটিতে থাকবে, পিঠ উপরের দিকে তুলতে হবে, পায়ের পাতা মাটি স্পর্শ করে থাকবে। দেখতে লাগবে অনেকটা ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষরের মতো।

৫) তার পর আবার প্ল্যাঙ্কের মতো ভঙ্গিতে চলে যেতে হবে। হাত ও পাতের পাতার উপর ভর দিয়ে শরীর মেঝের সঙ্গে সমান্তরালে রাখতে হবে।

৬) এই সবক’টি ধাপ একইসঙ্গে ছন্দ বজায় রেখে করতে হবে। একবারে ৫-৭টি রাউন্ড শেষ করে ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবারও প্রথম থেকে করতে হবে।

উপকার কী হবে?

এই আসন অভ্যাসে বুক, কাঁধ, হাত, কোমর, পিঠ এবং পায়ের পেশি একসঙ্গে শক্তিশালী হবে।

পেটের মেদ কমবে, পায়ে পেশির স্ট্রেচিং হবে।

সারা শরীরের পেশির সহনশীলতা ও শক্তি বাড়বে, নিয়মিত অভ্যাসে শরীরের ভারসাম্যও বাড়বে।

সঠিক নিয়মে অভ্যাসে ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়বে, শ্বাসপ্রশ্বাসের হার ঠিক হবে। হাঁপানি ও সিওপিডির রোগীরা আসনটি করলে উপকার পাবেন।

নিয়মিত অভ্যাসে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমবে।

মনঃসংযোগ বাড়বে, মানসিক চাপ অনেক কমে যাবে।

আসনটি অভ্যাসের সময়ে খেয়াল রাখতে হবে যাতে হাত ও গোড়ালিতে বাড়তি চাপ না পড়ে। কব্জি, কাঁধ বা কোমরের নীচে আঘাত থাকলে বা অস্ত্রোপচার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি না করাই ভাল।

Advertisement
আরও পড়ুন