Devaraj Chakrabarty

তোলাবাজি-সহ দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের তদন্ত করবে সিট! একে একে তলব শুরু দেব-ঘনিষ্ঠদেরও

পুলিশ সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই একজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৮
হাজতেও বিপদ বাড়ছে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর।

হাজতেও বিপদ বাড়ছে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর। ফাইল চিত্র।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। তোলাবাজির মামলাটি ছাড়া দেবরাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বাকি সমস্ত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল তথা সিট-কে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই একজন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, দেবরাজের বিরুদ্ধে মোট ১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৮টি অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বয়ান, নথিপত্র এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সিট। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, অভিযোগগুলির সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন এবং কোনও বৃহত্তর চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ জনকে তলব করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিধাননগর পুরনিগমের ৬ জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক ব্যক্তি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তলব করা হলেও ওই ৬ প্রাক্তন কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই হাজিরা এড়িয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর। সিটের নোটিস পাওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলরদের তালিকায় রয়েছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর বিনু মণ্ডল, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মণীশ মুখোপাধ্যায়, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর গোপাল বাগুই, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর মাইকেল নস্কর এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া। এ ছাড়াও নোটিস পাঠানো হয়েছে দেবরাজের ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত রতন মৃধাকে।

দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সংগঠিত অপরাধে মদত দেওয়া এবং অবৈধ পথে বিপুল সম্পত্তি করার অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে দেবরাজ এবং তাঁর স্ত্রী শিল্পী অদিতি মুন্সি রাজারহাট, নিউটাউন এবং ভিন্‌‌রাজ্যে একের পর এক সম্পত্তি কিনেছেন। পুলিশের পাশাপাশি দেবরাজের বিপুল সম্পত্তি এবং অর্থের উৎস খুঁজতে তদন্তের জন্য তৈরি হচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও।

রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, ১৩০০ কোটির সম্পত্তি করেছেন দেবরাজ। নির্বাচনী হলফনামায় দেবরাজের স্ত্রীর সম্পত্তি নিয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ বিজেপি বিধায়কের। তদন্তকারীদের নজরে দেবরাজের সংস্থা ডিসি গ্লোবাল। এই ডিসি গ্লোবাল তৈরি হয়েছিল দেবরাজের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে। টাকা পাচারে এই সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে নেমেছে সিট।

উল্লেখ্য, তোলাবাজির মামলায় এর আগেই সমরেশ চক্রবর্তী, মাইকেল নস্কর এবং সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। এ বার নতুন করে সিটের তলব ঘিরে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই তাঁদের আবার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারীদের বয়ানে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের প্রত্যেককেই পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজনে আরও ব্যক্তিকে নোটিস পাঠানো হতে পারে। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির মধ্যে আর্থিক লেনদেন, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর অনুগামীদের তোলাবাজি সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন