টিউমার অস্ত্রোপচারের পর কী ভাবে নিজেকে সুস্থ করছেন অভিনেত্রী দীপিকা? ছবি: সংগৃহীত।
দ্বিতীয় বার যকৃতে টিউমার ধরা পড়ে অভিনেত্রী দীপিকা কক্কড়ের। যদিও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই টিউমার সরানো হয়েছে। তবু এখনও নানা রকমের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন মুম্বইয়ের টেলিভিশনের অভিনেত্রী। তাঁর জীবন এখন শুধু গ্ল্যামার বা পর্দার সামনে আবর্তিত হচ্ছে না, বরং সুস্থতার দিকে ধীরে ধীরে ফিরে আসার এক বাস্তব লড়াই চলছে। তাঁর স্বামী, অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিম নিয়মিত ইউটিউব ভ্লগে স্ত্রীর যুদ্ধের খবরাখবর দিতে থাকেন। সম্প্রতি স্ত্রীর এই পথচলায় তাঁর নতুন ডায়েট ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ঝলক দিলেন শোয়েব। যেন একেবারে বদলে দিয়েছে দীপিকার জীবনযাত্রার ছন্দ। যা আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
স্বামী শোয়েব ও সন্তানের সঙ্গে দীপিকা। ছবি: সংগৃহীত
সকাল ৭টায় উঠতে হচ্ছে দীপিকাকে। আগে যেখানে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল, তা পাল্টাতে হয়েছে স্বাস্থ্যের জন্য। তার পর মাঝে মধ্যেই হাঁটতে বেরোচ্ছেন। সন্ধ্যা ৭টার পর আর কিছু খাওয়াদাওয়া করা নিষেধ। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নতুন এই যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন দীপিকা। কিন্তু তাঁর জন্য এই অভ্যাসে রপ্ত হওয়া বেশ কঠিন বলেই মত শোয়েবের।
সকালে ওঠা: বেলায় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস বদলানো আদপে সহজ নয়। কিন্তু ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে যদি ভোর ভোর ওঠা যায়, তা হলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি মেজাজও ভাল থাকে। দিনের অনেকটা সময় পাওয়া যায়।
হাঁটাহাঁটি: নতুন এই রুটিনে হাঁটা বাধ্যতামূলক। প্রতি দিন কিছু ক্ষণ হাঁটতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে আসছে। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর বা দীর্ঘ অসুস্থতার পরে শরীরকে অল্প সক্রিয় রাখা দরকার। যেমন, হাঁটাহাঁটি খুবই কার্যকরী বিকল্প। শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং মন ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথম প্রথম ক্লান্ত লাগলেও এই অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া উচিত।
৭টার পর না খাওয়া: ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে হজমের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সন্ধ্যার মধ্যে দিনের শেষ খাবার খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দীপিকার শরীর এখন দুর্বল, তাই যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর নিয়ম মেনে চললে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য এই ধরনের সময়মাফিক খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদেরাও। নিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া হজমের উন্নতি ঘটায় এবং শরীরের জৈবঘড়িকেও ঠিক রাখে।
এই নিয়মগুলি দীপিকার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন তাঁর চিকিৎসক। সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ নয়, নিয়মিত ঘুম, সময়মতো খাওয়া আর অল্প ব্যায়াম, এই তিনের সমন্বয়ই আসল চাবিকাঠি।