ছবি : সংগৃহীত।
অফিসে জুতো খোলার প্রয়োজন পড়ল। কিন্তু সেই কাজটি সারতেই মোজার গন্ধে চমকে উঠলেন নিজে। আশপাশের সহকর্মীদের দিকে তাকিয়ে দেখে নিলেন, তাঁরাও সেই গন্ধ পেলেন না তো! তেমন হলে ভাবমূর্তির দফারফা। কিন্তু বিষয়টি অত্যন্ত স্বাভাবিক। শীতকালে বা দীর্ঘ ক্ষণ জুতো-মোজা পরে থাকলে পায়ে এবং তার থেকে মোজায় দুর্গন্ধ হতেই পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ব্রোমিডোসিস’ বলা হয়। পায়ের ঘাম যখন ব্যাক্টেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, তখনই এই দুর্গন্ধ তৈরি হয়। তবে সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
১. নুন জল বা এপসম সল্ট
একটি গামলায় হালকা গরম জল নিয়ে তাতে কিছুটা সাধারণ নুন বা এপসম সল্ট মেশান। প্রতি দিন বাড়ি ফিরে ১৫-২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। নুন ত্বক থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয় এবং ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট করে।
২. টি-ব্যাগ বা চায়ের লিকার
দু’টি টি-ব্যাগ ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে একটি গামলায় নিন এবং পা ভিজিয়ে রাখুন। এটি পায়ের লোমকূপ সঙ্কুচিত করে ঘাম কমিয়ে দেয়। চায়ের পাতায় থাকা ট্যানিক অ্যাসিড ব্যাক্টেরিয়া মারতেও সাহায্য করে।
৩. ভিনিগারের ব্যবহার
জলে আপেল সাইডার ভিনিগার বা সাদা ভিনিগার মিশিয়ে পা ধুলে পায়ের 'পিএইচ' ভারসাম্য ঠিক থাকে। ভিনিগারও ব্যাক্টেরিয়া নাশ করে দুর্গন্ধ দূর করে।
৪. বেকিং সোডা বা ট্যালকম পাউডার
জুতো পরার আগে পায়ে এবং জুতোর ভেতরে সামান্য বেকিং সোডা বা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার ছিটিয়ে দিন। এটি ঘাম শুষে নেবে এবং পা শুকনো রাখবে।
৫. তেল-কর্পূরের টোটকা
রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে সামান্য নারকেল তেল ও কর্পূর মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন। এটি পা জীবাণুমুক্ত রাখতে ভাল কাজ করে।
আর যা খেয়াল রাখবেন
সঠিক মোজা নির্বাচন করতে হবে। সিন্থেটিক মোজা এড়িয়ে সুতির মোজা পরুন, যা ঘাম শোষণ করতে পারে। প্রতি দিন কাচা মোজা ব্যবহার করুন। এক মোজা টানা দু’দিন পরবেন না। এ ছাড়া একই জুতো প্রতি দিন না পরে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরুন এবং জুতো ব্যবহারের পর রোদে বা খোলা হাওয়ায় রাখুন।