ছবি : সংগৃহীত।
তিন খানের পরবর্তী জমানায় বলিউডের যে নায়কেরা বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছেন, তাঁদের মধ্যে অবশ্যই সিদ্ধার্থ মলহোত্র এক জন। তাঁর রূপ, তাঁর পেশিবহুল চেহারা, হাবভাব, ম্যানারিজ়ম— ‘জেন জ়ি’রও পছন্দ। আবার সিদ্ধার্থকে পছন্দ করেন পূর্ববর্তী জমানার মিলেনিয়াল মহিলা ভক্তেরাও। এমন দুই পৃথিবীর পছন্দের মুখ হয়ে উঠতে পারা মুখের কথা নয়। সিদ্ধার্থ তা পেরেছেন। নিজেকে গত প্রায় এক দশক ধরে একই রকম সুন্দর রেখেছেন নায়ক। কৃতিত্বের অনেকটা অবশ্যই তাঁর খাওয়াদাওয়ার রুটিনের। তবে বলিউডের এই নায়কের খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসটি খানিক অন্য রকম। তিনি নিয়মও মানেন, আবার সুযোগ বুঝে অনিয়ম করতেও পিছপা হন না। সিদ্ধার্থ সম্প্রতি তাঁর সেই দৈনিক রুটিন সবিস্তার জানিয়েছেন। সকাল থেকে রাত তাঁর থালায় স্বাস্থ্যকর কী কী থাকে, কখনও সখনও সুস্বাদু খাবার খেতে ইচ্ছে করলেই বা কী খান— সে সবই আপাতত প্রকাশ্যে।
দিনে তিন বার
সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, তিনি দিনে তিন বার খাবার খান। প্রাতরাশ, মধ্যাহ্ণভোজ এবং নৈশাহার। এর বাইরে মাঝে আর কিছুই খান না। এমনকি, অল্পস্বল্প জলখাবারও নয়। প্রতিটি খাবারের মাঝে দীর্ঘ বিরতি থাকে তাঁর। কেন? সিদ্ধার্থ কারণ জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘‘আমি প্রত্যেকটা খাবার খাওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি নিই। তার কারণ, আমি মনে করি, আগে যা খেলাম তা পুরোপুরি হজম করতে ওইটুকু সময় লাগবেই। আমি সেই সময়ে আরও খাবার খেয়ে ওই প্রক্রিয়াটিকে ব্যাহত করতে চাই না।’’
প্রাতরাশ
সিদ্ধার্থের কাছে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার প্রাতরাশ। তিনি জানাচ্ছেন, সারা দিনের নানা কাজের জন্য যে শক্তি দরকার হয়, তার বেশির ভাগটুুকুর ব্যবস্থাই তিনি করে ফেলেন প্রাতরাশের থালায়। তাই সিদ্ধার্থের প্রাতরাশ শুরু হয় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন দিয়ে। সকালে ৩টি ডিম দিয়ে তৈরি যে কোনও একটি পদ খান তিনি মাঝে মধ্যে সেদ্ধ ডিমও খান। এ ছাড়া থাকে রাঙাআলু, যা বিভিন্ন ফাইবার আর ভিটামিনে ভরপুর।
মধ্যাহ্নভোজ
দুপুরের খাবারেও প্রোটিন থাকবেই। তবে তার সঙ্গে প্রচুর সবুজ শাকসব্জিও খান তিনি। সিদ্ধার্থ বলছেন, ‘‘আমি সাধারণত মুরগির মাংসের সঙ্গে প্রচুর মরসুমি সব্জি, পালং বা যে কোনও শাক খাই।’’ সারা দিনে বেশি পরিশ্রম থাকলে এর সঙ্গে একটি বা দু’টি সেদ্ধ আলু খান সিদ্ধার্থ। না হলে দুুপুরের খাবার ওইটুকুতেই সীমিত রাখেন।
নৈশভোজ
রাতের খাবার সবচেয়ে হালকা খান অভিনেতা। বেশির ভাগ দিনই একটা গ্রিল করা মাছ অথবা হালকা প্রোটিন জাতীয় কিছু থাকে পাতে।
চা-কফি
চা বা কফির প্রতি বিশেষ টান নেই সিদ্ধার্থের। তবে কখনও সখনও ঝিমিয়ে পড়া মেজাজ ভাল করতে হলে চিনি এবং দুধ ছা়ড়া কালো কফি খান। আর তাতে মিশিয়ে নেন সামান্য ঘি। মাঝেমধ্যে শরীরচর্চা করার আগেও ঘি দেওয়া কফি খেয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।
তাজা ফলে অনীহা
স্বাস্থ্য সচেতনেরা সুস্থ শরীরের জন্য প্রতি দিন একটি বা দু’টি ফল খাওয়ার কথা বলেন। সিদ্ধার্থ অবশ্য ফল খান না। তিনি বলছেন, ‘‘আমি তাজা ফল খেতে পছন্দ করি না তেমন। যদি খেতেই হয় আমি একটা কলা খাই মাঝেসাঝে। নয়তো শুকনো ফল খেতে ভালবাসি।’’
কী খেতে ভালবাসেন
মিষ্টি: জিলিপি দেখলে হাঁটু দুর্বল হয়ে যায় সিদ্ধার্থের। মিষ্টি খেতে তিনি ভালবাসেন। তবে স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই বেশি খান না। মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হলে ডার্ক চকোলেট খান। আর ‘চিট ডে’-তে মাঝেসাঝে জিলিপি থেকেও বঞ্চিত করেন না নিজেকে।
মাছ: প্রিয় খাবার যেকোনও ধরনের মাছ বা সিফুড। বিশেষ করে চিংড়ি, কাঁকড়া আর সামুদ্রিক মাছের প্রতি দুর্বলতা আছে তাঁর।
স্ন্যাক: সাধারণত জলখাবার জাতীয় কিছু না খেলেও ‘চিট ডে’-র দিনে তিনি আয়েস করে খান চাট, হালুয়া, পুরি-সব্জির মতো খাবার।
আরাম করে খাওয়ার খাবার
প্রত্যেকেরই জীবনে এমন কিছু খাবার থাকে, যা এক গ্রাস মুখে দিলেই আরামে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। পায়ের নীচে জমিটা চেনা মনে হয়। সিদ্ধার্থের জীবনেও তেমন 'কমফের্ট ফুড' রয়েছে। একটি নয়, দু’টি নয় তিনটি।
১. প্রথমটি মটন বিরিয়ানি। সিদ্ধার্থ বলছেন, ‘‘দিল্লিতে এই বিরিয়ানি খেয়ে আমি বড় হয়েছি। তাই আমি বাড়িতে গেলেই মাকে বলি বিরিয়ানি বানাতে।’’
২. এ ছাড়া পিৎজ়া খেতে ভালবাসে সিদ্ধার্থ। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি বোর হয়ে গেলে পিৎজ়া খাই। তবে সে ক্ষেত্রে পিৎজ়ার স্বাস্থ্যকর সংস্করণ বেছে নিই। যেমন, ময়দার বদলে গ্লুটেন মুক্ত আটা ব্যবহার করে তৈরি করা পিৎজ়া খাই।’’
৩. আর সুশি খেতে ভালবাসেন সিদ্ধার্থ। তিনি জানিয়েছেন, ওই জাপানি খাবার মন জয় করে নিয়েছে তাঁর। হয়তো স্বাস্থ্যকর বলে স্বাদ বদলের ইচ্ছে হলেই সুশি খান নায়ক।