ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স রয়েছে আপনার শরীরেও? কোন বিপদ হতে পারে এতে? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়াবিটিস বিপজ্জনক। সময়ে চিকিৎসা না হলে তা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ডায়াবিটিস নিয়ে যত ভাবনা, তার বিন্দুমাত্র সতর্কতা নেই ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স নিয়ে। অথচ চিকিৎসকেরা বলছেন, ডায়াবিটিস না থাকলেও অনেকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের শিকার হতে পারেন। আর এই সমস্যাও কম বিপজ্জনক নয়।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’-এর বিপদ এবং লক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনায় উঠে এল এর নানা দিক। অগ্ন্যাশয় নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনে শরীরে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শর্করাজাতীয় খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। কোনও কারণে ইনসুলিন সঠিক ভাবে কাজ না করলে শরীর শর্করাকে শক্তির উৎস হিসাবে ব্যবহার করতে পারে না। উল্টে সেই শর্করা রক্তে মিশতে থাকে। ফলে সমস্যা হয় শরীরে। ডায়াবিটিসের মতো অসুখ হয়। শরীরে ইনসুলিন হরমোন থাকা সত্ত্বেও যদি তা ঠিক ভাবে কাজ করতে না পারে, কোষ যদি হরমোনটিকে যথাযথ ব্যবহার করতে না পারে, তখনই ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স তৈরি হয়। এ এক এমন সমস্যা, যাতে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ে না, বরং বিপাকজনিত নানা রকম অসুখ হতে পারে এতে। হতে পারে হার্টের সমস্যাও।
ডায়াবিটিস নিয়ে লোকজন চিন্তিত হলেও ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ শব্দবন্ধের সঙ্গে পরিচিত নন অনেকেই। অথচ ডায়াবিটিস না থাকলেও ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ হতেই পারে শরীর। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, কারও ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ রয়েছে কি না, তিনি কী ভাবে বুঝবেন।
পডকাস্টের আলোচনায় উঠে আসে, তলপেটের মেদ, ঘাড়ে কালচে ছোপ, ইরেক্টাইল ডিজ়ফাংশন, ওভারিতে সিস্টের মতো লক্ষণ ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’-এর ইঙ্গিতবাহী। তবে কি এই লক্ষণ থাকলেই নিশ্চিত হয়ে যাবেন আপনিও?
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করলে হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তা থেকেই ঘাড়ে কালো ছোপ, ওজন বৃদ্ধি, তলপেটে মেদ বৃদ্ধির মতো নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। তবে এই উপসর্গগুলি দেখেই ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ রয়েছে ভেবে নেওয়া ঠিক নয়, সতর্ক করছেন দিল্লি নিবাসী ডায়াবিটিস চিকিৎসক হিমিকা চাওলা। তিনি জানাচ্ছেন, এই ধরনের লক্ষণ অন্য অসুখেও কিন্তু হতে পারে। তাই ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন।
কোন পরীক্ষায় ধরা পড়বে তা?
ফাস্টিং গ্লুকোজ় এবং ফাস্টিং ইনসুলিন পরীক্ষা কাজে আসতে পারে। এই ধরনের পরীক্ষায় ৮-১০ ঘণ্টা না খাওয়ার পরে রক্তে শর্করা এবং ইনসুলিনের মাত্রা কতটা রয়েছে ধরা পড়ে। এ ছাড়াও রয়েছে হোমা-আইআর পরীক্ষা। এই পরীক্ষাতেও ইনসুলিন এবং রক্তে শর্করার মাত্রার পরিমাপ বিশ্লেষণ করে ধরা যায় সেই ব্যক্তি বিশেষের ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ রয়েছে কি না। তবে চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, সব সময়ে এক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় না, একাধিক পরীক্ষা, রোগীর উপসর্গ দেখেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।
‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ থাকলে কী করণীয়
পিসিওডি, ইরেক্টাইল ডিজ়িফাংশন, ত্বকের রং বদলে যাওয়ার নেপথ্যে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স থাকতে পারে। তবে শুধু সমস্যা ভিত্তিক চিকিৎসায় এর সমাধান সম্ভব নয়। বরং দৈনন্দিন জীবনে বদল আনা জরুরি।
· নিয়ম করে হাঁটহাঁটি, শরীরচর্চা করা এবং ওজন বশে রাখা দরকার।
· প্রোটিন-ফাইবার জাতীয় খাবার খাওয়া, ভাজাভুজি এড়ানো প্রয়োজন।
· পর্যাপ্ত ঘুম।
· মানসিক চাপ কমানোর জন্য প্রাণায়...
চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, ‘ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স’ টাইপ ২ ডায়াবিটিস এবং প্রি ডায়াবিটিস (ডায়াবিটিসের আগের পর্ব)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তা আরও নানা অসুখের কারণ হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সতর্কতা জরুরি।