—প্রতীকী ছবি।
২২ জুন, সোমবার থেকে শুরু হয়েছে অম্বুবাচী। চলবে ২৬ জুন পর্যন্ত। অম্বুবাচী শব্দের অর্থ হল জলবৃদ্ধি। সূর্য আদ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করলে অম্বুবাচী শুরু হয়। হিন্দুশাস্ত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, এই সময় ধরিত্রীমাতা ঋতুমতী হন। তবে এই রক্তকে অচ্ছুত নয়, পবিত্র মনে করা হয়। শাস্ত্র তেমনটাই বলে। যদিও বিভিন্ন কাজ রয়েছে যা এই সময় করা অনুচিত। লোকমত অনুযায়ী, ধরিত্রী মায়ের এই সময় বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। তাই বিশেষ কিছু কাজ অম্বুবাচী চলাকালীন করতে নিষেধ করেন বিজ্ঞজনেরা। অন্যথায় ধরিত্রীর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে ভাগ্যের উপর কুপ্রভাব পড়তে পারে। কোন কাজগুলি এই সময় করা অনুচিত, বদলে কী কী করা যেতে পারে, জেনে নিন।
অম্বুবাচী চলাকালীন কোন কাজগুলি করা যাবে না?
১. এই সময় দেবীপুজো নিষিদ্ধ। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, সকল দেবীরই এই সময় বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। তাই সিংহাসনে থাকা তাঁদের সমস্ত ছবি বা মূর্তি লাল রঙের কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। লাল রঙের কাপড় না থাকলে, অন্য যে কোনও শুদ্ধ কাপড় দিয়ে ঢাকা যেতে পারে। অম্বুবাচী ছাড়ার পর পুনরায় তাঁদের পুজো করা যাবে। তবে পুজো করার পূর্বে তাঁদের মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে সিংহাসন শুদ্ধ করে নিতে হবে।
২. এই সময় ধরিত্রী মাকে কোনও ভাবে আঘাত করা যাবে না। গাছ লাগানো, মাটি কাটা প্রভৃতি কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. অম্বুবাচী চলাকালীন চাষাবাদ করা যাবে না।
৪. এই সময় পুজো করার ক্ষেত্রে মন্ত্রপাঠ করা অনুচিত। শুধুমাত্র ফুল অর্পণ করে, ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে পুজো করতে হবে।
৫. অম্বুবাচী চলাকালীন কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিল্পনা থাকলে তা স্থগিত রাখাই ভাল হবে এবং বাড়িতে কোনও শুভ কাজ করা যাবে না।
৬. লোকবিশ্বাস মতে, এই সময় চুল-নখ কাটা উচিত নয়। বড় কোনও অর্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।
কোন কাজগুলি করা যাবে?
১. অম্বুবাচী চলাকালীন নির্দ্বিধায় গুরুপ্রদত্ত মন্ত্র জপ করতে পারবেন।
২. অম্বুবাচী যে দিন শেষ হবে, অর্থাৎ শুক্রবার দেবীদের শুদ্ধ করার পর আমদুধ নিবেদন করুন।
৩. তুলসীগাছের গোড়ার দিকে খেয়াল রাখবেন। সেখানের মাটি যেন আলগা না হয়ে যায়। প্রয়োজনে গোড়া বেশি করে মাটি দিয়ে উঁচু করতে হবে।
৪. অম্বুবাচীর ক’দিন আম-দুধ খেলে সাপের ভয় কমে যায় বলে বিশ্বাস।