(বাঁ দিকে) এমকে স্ট্যালিনের ভঙ্গি নকল করলেন বিজয় (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের পুরনো এক ভঙ্গি আবার আলোচনায় উঠে এল। সৌজন্যে তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ‘তলপতি’ বিজয়। মঙ্গলবার বিধানসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ডিএমকে তথা স্ট্যালিনকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁরই পুরনো হাতের এক ভঙ্গি অনুকরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তা দেখে হাসির রোল ওঠে বিধানসভায়।
রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময়ই ডিএমকে এবং টিভিকে-র বিধায়কেরা বাদানুবাদে জড়ান। অভিযোগ, বিজয়ের ভাষণের সময় ডিএমকে-র বিধায়কেরা বার বার বাধা দেন। পাল্টা ডিএমকে-র বিরুদ্ধে স্লোগান দেন টিভিকে-র বিধায়কেরা। দু’পক্ষের স্লোগানের মধ্যেই তামিলনাড়ুর বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর সকলকে অনুরোধ করেন, যাতে বিজয়কে তাঁর বক্তৃতা শেষ করতে দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও ডিএমকে-র বিধায়কেরা স্লোগান দিতে থাকেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষে বিধানসভা ওয়াকআউট করেন ডিএমকে-র বিধায়কেরা।
তামিলনাড়ুতে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিধায়ক সংখ্যা ছিল না কোনও দলের কাছে। অনেক টালবাহানার পর শেষপর্যন্ত বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন জানায় কংগ্রেস। পাশাপাশি, আরও দু’একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েন বিজয়। বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছিল কংগ্রেস। সেই জোটে ছিল বাম দলগুলিও। কিন্তু সরকার গড়ার সময় টিভিকে-কে সমর্থন জানানোয় কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির উপর চটেছে ডিএমকে। মঙ্গলবার বিধানসভায় সেই বিষয় উল্লেখ করে টিভিকের বিরুদ্ধে ‘ঘোড়া কেনাবেচার’ অভিযোগ করে তারা।
বক্তৃতার সময় তামিলনাড়ুর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রাক্তন ডিএমকে সরকারকে নিশানা করেন বিজয়। তাঁর কথায়, ‘‘নারী সুরক্ষা এবং মাদক দমনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু তামিলনাড়ুতে এই সমস্যাগুলি অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই সমস্যাগুলি সমাধান করার।’’ বক্তৃতার মাঝেই বিজয় একটি হাতের ভঙ্গি করেন, যা স্ট্যালিনের পুরনো এক ভিডিয়োকে আবার আলোচনায় তুলে আনে।
বিজয় তাঁর হাত গলার এক পাশ থেকে আড়াআড়ি ভাবে অপর পাশে নিয়ে যান! গত মার্চে অনেকটা এমনই ভঙ্গি করতে দেখা গিয়েছিল স্ট্যালিনকে। এই ভঙ্গির সঙ্গে অনেকে আবার অল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’ সিনেমার ভঙ্গির মিল খুঁজে পেয়েছেন। গত মার্চে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর হোটেল থেকে বার হওয়ার সময় স্ট্যালিনকে সাংবাদিকেরা অনেক প্রশ্ন করেন। সেই সময় তিনি মুখে কিছু না-বললেও হাতের ওই ভঙ্গিটি করেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। অনেকের মতে, স্ট্যালিন সেই সময় বোঝাতে চেয়েছিলেন সমঝোতা ‘চূড়ান্ত’ হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিজয় সেই একই ভঙ্গি নকল করে কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়ে রাজনৈতিক মহলে।