বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির প্রতিটি কোণের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে।
কারণ
এগুলি পঞ্চভূতের (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম) ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই কোণগুলির
সঠিক ব্যবহার বাড়ির সদস্যদের সুখ, সমৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
বাড়ির বিশেষ কয়েকটি কোণ বা দিক রয়েছে, যেগুলি কোনও অবস্থাতেই খালি রাখা উচিত নয়,
এর ফলে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাধা পায় বলে আশঙ্কা করা হয়ে থাকে। অসুস্থতা,
অর্থাভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছেন বাস্তুবিদেরা। তাই, সেই বিশেষ
দিকগুলিতে কী রাখলে তা শুভ ফল দেবে সে ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে থাকেন তাঁরা। সেগুলি
সম্পর্কে জেনে নিন—
-
ঈশান কোণ: এই দিকের নিয়ন্ত্রণ
থাকে দেবাদিদেব মহাদেবের হাতে। বাস্তুমতে, উত্তর ও পূর্ব দিক সবচেয়ে বিশুদ্ধ। এখানে ঠাকুরের সিংহাসন রাখতে পারলে
খুবই ভাল, তা যদি সম্ভব না হয় একটি জলপূর্ণ কলসি রেখে দিন। এতে সুফল পাওয়া যায় বলে
মনে করা হচ্ছে।
-
নৈঋত কোণ: দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকটিকে বাড়ির স্থায়িত্বের
প্রতীক বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। তাই এই স্থান কোনও মতেই খালি রাখা যাবে না। এই দিকে কোনও
শোপিস রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তুশাস্ত্রবিদেরা।
-
অগ্নি কোণ: আগুনের কাজ হল কোনও কিছুকে
উদ্দীপ্ত করা বা সচল রাখা। দক্ষিণ-পূর্ব
দিক ফাঁকা থাকলে বাড়ির বাসিন্দাদের
মধ্যে কাজে উদ্যমের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। এটি
রান্নাঘরের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। তা সম্ভব না হয়, তবে কোনও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম
এ দিকে রাখতে পারেন বলে জানাচ্ছেন বাস্তুবিদেরা।
-
বায়ুকোণ: পবনদেবের প্রভাবে এই দিকটি
অস্থির থাকে বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। যদি এই কোণটি ফাঁকা পড়ে
থাকে, তবে বাড়ির সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, মতপার্থক্য
এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিতে পারে। মানসিক অস্থিরতাও তৈরি হতে
পারে। এই দিকে একটি উইন্ড চাইম ঝোলালে তা ভাল ফল দেবে বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র।
-
উত্তর দিক:
বাস্তুমতে, উত্তর দিকের অধিপতি হলেন কুবের। এই স্থানও খালি রাখার ব্যাপারে সতর্ক
করা হয়ে থাকে। কেননা, এর ফলে সঞ্চয়ে বাধার আশঙ্কা থেকে যায়। এই দিকে লক্ষ্মী বা
কুবেরের মূর্তি রাখতে পারেন। ঘরে রাখার কোনও গাছ রাখলেও উপকার পাবেন বলে প্রচলিত
বিশ্বাস।