ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
পৌরাণিক কাহিনি মতে, ব্রহ্মার মানসপুত্র এবং দেবর্ষি নারদের আধ্যাত্মিক গুরু সনৎকুমারের কাছে মহর্ষি অঙ্গিরা এবং তাঁর স্ত্রী বাসনা জানান যে, তাঁরা যেন জ্ঞানী, ধার্মিক সুপুত্রের পিতা-মাতা হতে পারেন। শাস্ত্রমতে, যোগী সনৎকুমারের আশীর্বাদে বৃহস্পতির জন্ম হয়। তাই তিনি দেবগুরু বৃহস্পতি হিসাবে খ্যাত। দেবগুরু জ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মের গ্রহ। দেবগুরু বৃহস্পতির বাহন নীতিঘোষ।
গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য মুনি-ঋষিগণ গ্রহদের ঘূর্ণন পথকে সমান ১২টি ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগের নামকরণ করেন। এক একটি ভাগ ভিন্ন ভিন্ন রাশি হিসাবে পরিচিত।
বৃহস্পতি গ্রহ নিজ কক্ষপথে এক পাক ঘুরতে সময় নেয় কমবেশি বারো বছর। অর্থাৎ, বারো বছরে বৃহস্পতি ১২টি রাশি অতিক্রম করে। প্রত্যেক রাশিতে কমবেশি এক বছর অবস্থান করে দেবগুরু। তবে পৃথিবী থেকে নির্দিষ্ট গ্রহের কৌণিক অবস্থান অনুযায়ী কখনও-সখনও গ্রহদের বক্রগতি প্রাপ্ত বলে মনে হয়। বক্রগতি প্রাপ্ত হলে গ্রহের গতি কমে যায়। কখনও আবার বিপরীতগামীও মনে হয়। এই কারণে হিসাবে পার্থক্য দেখা যায়।
আগামী ২ জুন, ভারতীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে দেবগুরু বৃহস্পতি রাশি পরিবর্তন করে মিথুন রাশি থেকে কর্কট রাশিতে গমন করবে। আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বৃহস্পতি কর্কট রাশিতেই অবস্থান করবে। ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে বৃহস্পতি পুনরায় রাশি পরিবর্তন করে সিংহ রাশিতে গমন করবে। কর্কট রাশি বৃহস্পতির উচ্চস্থ স্থান। তা সত্ত্বেও ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ১৩ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্য এবং বৃহস্পতির কৌণিক দূরত্ব কম হওয়ার কারণে, অর্থাৎ সূর্য বৃহস্পতির খুব কাছে অবস্থানের কারণে বৃহস্পতি দগ্ধ অবস্থায় অবস্থান করবে। সেই কারণে বৃহস্পতি পূর্ণ সুফল দান করতে পারবে না।