রাউরকেলার কাছে ভেঙে পড়া সেই ছোট বিমান। ছবি: পিটিআই।
ওড়িশার রাউরকেলায় বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দিল এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। রবিবার সংস্থার আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। আকাশ থেকে ভেঙে পড়া বিমানটির ছবি তুলেছেন। কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে। বিমানের ভিতরে কী সমস্যা হয়েছিল, কেন ওড়ার পরেই পাইলটকে ‘মে ডে কল’ জারি করতে হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমান দুর্ঘটনার ফলে আহত যাত্রীদের মধ্যে এক জনের চিকিৎসা চলছে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে। দু’জনকে মুম্বইতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভুবনেশ্বর থেকে শনিবার দুপুরে রওনা দিয়েছিল বেসরকারি সংস্থার ওই ছোট বিমান। তাতে দু’জন পাইলট-সহ মোট ছ’জন ছিলেন। বিমানটির আসনসংখ্যা ছিল ৯। ওড়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই রাউরকেলা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলে ‘মে ডে কল’ জারি করেন পাইলট। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বেলা ১টা ২০ মিনিট নাগাদ রাউরকেলার কানসোরের কাছে বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে।
অবতরণ করতে গিয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ভিতরে থাকা ছ’জনই আহত হয়েছেন। তাঁরা চিকিৎসাধীন। শনিবার ওড়িশা সরকার জানিয়েছিল, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল। কারও চোট গুরুতর নয়। কিন্তু রবিবার জানা যায়, দুই আহত যাত্রী স্বেচ্ছায় মুম্বইয়ে চিকিৎসা করানোর আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে রাউরকেলা থেকে মুম্বইতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, আর এক যাত্রী ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। এই ঘটনার তদন্তের জন্য এএআইবি-র তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।
ওড়িশার পরিবহণমন্ত্রী ঊষা পধী রবিবার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের দলটিকে সরকারের তরফে একটি হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছিল। তাতে চড়ে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আকাশ থেকে ভেঙে পড়া বিমানের ছবি তুলেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়েও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। এএআইবি-র তদন্তের সুবিধার্থে ওড়িশা সরকার সব রকম বন্দোবস্ত করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।